ফুলবাড়ীতে ভরা বর্ষা মৌসুমেও বৃষ্টির দেখা মিলছে না। ফলে প্রচণ্ড গরম আর খরতাপে বেড়েই চলেছে সর্দি-কাশি-জ্বর ও ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের রোগ। এর প্রভাব পড়েছে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর। এতে চিকিত্সকসহ সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
গত দুই দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, জ্বর-সর্দি-কাশি আর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রোগীরা আসছেন চিকিত্সা নিতে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৫০ জন এবং জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৭৫ জন রোগী চিকিত্সা নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে প্রতিদিন এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে অন্তত সাড়ে ৩০০ রোগীকে চিকিত্সা দিতে হয়।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন কয়েক জন রোগী জানান, এক সপ্তাহ ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন। শরীর আগের চেয়ে অনেক ভালো। ডাক্তার বলেছেন, রবিবারের মধ্যে বাড়ি যেতে পারবেন।
মহিলা ওয়ার্ডের কয়েক জন রোগী জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা খুব ভালোই পাচ্ছি, বেশির ভাগ ওষুধই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দেওয়া হচ্ছে। তবে যেসব ওষুধ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই, সেগুলো বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. সাকিলুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে প্রতিদিন শিশু ও বৃদ্ধসহ তিন শতাধিক মানুষকে চিকিত্সাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে বর্তমানে ডায়রিয়া রোগী কিছুটা কম হলেও বেশির ভাগই জ্বরের রোগী। হঠাৎ গরম বেড়ে যাওয়ায় শিশুসহ সব বয়সি মানুষ ভাইরাসজনিত কারণে সর্দি-জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে এসব কারণে আতঙ্কিত না হয়ে সময়মতো সঠিক চিকিত্সা নিলেই রোগীরা সুস্থ হয়ে যাবেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মশিউর রহমান বলেন, যেহেতু আবারও করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। জ্বর-ঠাণ্ডা করোনার উপসর্গ। প্রতিদিন বহির্বিভাগে তিন শতাধিক রোগী চিকিত্সা নিচ্ছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই জ্বর-ঠাণ্ডা-সর্দি ও ডায়রিয়া রোগী। যাদের শারীরিক অবস্থা খারাপ মনে হচ্ছে তাদেরকে অন্তবিভাগে ভর্তি করে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যারাসিটামলসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
