রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দিনাজপুরে থমকে আছে চালের বাজার

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২২, ০০:৩৪

ঈদের আগে ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও ভারত থেকে চাল আমদানির খবরে দিনাজপুরে থমকে আছে চালের বাজার। এদিকে দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় ১১ মাস পর গত শনিবার থেকে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আবারও শুরু হয়েছে চাল আমদানি। প্রথম দিনে তিনটি ট্রাকে ভারত থেকে চাল এসেছে ১০৫ টন। আমদানির গতি বাড়লে দিনাজপুরে চালের বাজার নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন চাল ব্যবসায়ীরা।

গত ঈদুল আজহার আগে দিনাজপুরে চালের বাজারে ছিল ঊর্ধ্বগতি। এ সময় এক সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরে প্রতি কেজি চালের মূল্য বৃদ্ধি পায় চার থেকে পাঁচ টাকা। কিন্তু ঈদের পর সরকার ভারত থেকে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থমকে যায় চালের বাজার। দিনাজপুরের চাল বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদের পর দিনাজপুরে চালের দাম আর বাড়েনি এবং বেচাকেনাও বেশ কমেছে।

গতকাল রবিবার দিনাজপুরের বাহাদুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ কেজির প্রতি বস্তা হাইব্রিড জাতের চাল ২ হাজার ৫০ টাকা, সুমন স্বর্ণ ২ হাজার ৪৫০ টাকা, গুটিস্বর্ণ ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৩৫০ টাকা, বিআর-২৯ জাতের চাল ২ হাজার ৪০০ টাকা, বিআর-২৯ চাল ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৬৫০ টাকা এবং প্রতি বস্তা মিনিকেট চাল ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাল বিক্রেতারা জানান, ঈদের আগে থেকেই এই দামে চাল বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে যে হারে চালের দাম বাড়তে শুরু করেছিল, ঈদের পর আর দাম বাড়েনি। বর্তমানে থমকে আছে চালের বাজার। ভারত থেকে চাল আমদানির খবরেই এই অবস্থা বলে জানান তারা। বাহাদুর বাজারের চাল ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী জানান, ঈদের পর থেকেই চালের বেচাকেনা কমেছে। তিনি বলেন, ভারত থেকে আমদানি বাড়লে বাজারে এর প্রভাব পড়বে এবং দাম কমে আসবে।

অন্যদিকে, দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় ১১ মাস পর আবারও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই ট্রাক চাল ভারত থেকে দেশে প্রবেশের মধ্য দিয়ে আমদানি শুরু হয়। শনিবার মোট তিনটি ট্রাকে ভারত থেকে চাল এসেছে ১০৫ টন। আমদানিকারকের এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম বলেন, শনিবার ভারত থেকে দুই ট্রাকে ৭৪ টন চাল দেশে ঢুকেছে। প্রতি টন চাল ৩০০ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হয়েছে। এর সঙ্গে প্রতি কেজি চালে কাস্টমসে সরকারের শুল্ক ও বন্দর খরচ মিলিয়ে ১০ টাকার মতো পড়বে। সব খরচ মিলিয়ে পরে চালের দাম নির্ধারণ করা হবে।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম নুরুল আলম খান বলেন, চাল আমদানিতে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ থাকায় বন্দর দিয়ে এতদিন আমদানি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি শুল্ক কমিয়ে রেয়াতি হারে চাল আমদানির সুযোগ দিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে চালের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে শুধু যারা সরকারের কাছ থেকে চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছেন তারাই এ শুল্কে আমদানি করতে পারবেন। অন্য কেউ চাল আমদানি করলে তাকে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।’

ইত্তেফাক/ইআ