বটিয়াঘাটায় খরস্রোতা নালুয়া নদী এখন নালা

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২২, ১৮:৪০

সময়ের বিবর্তনে প্রকৃতির আবর্তে হারিয়ে গেছে এককালের খরস্রোতা নালুয়া নদী। এখন নালুয়া নদী পরিণত হয়েছে নালায়। এদিকে নদীর এ অবস্থা হওয়ায় পানির অভাবে কৃষকের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ৩০ বছর আগেও তীব্র গতিতে নালুয়ার বুক চিরে ছুটে চলেছে স্পিডবোট, লঞ্চ, স্টিমারসহ বিভিন্ন জলযান। আজ তার বুকে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বাস করছে। পশুর নদ থেকে উঠে আসা এ নদী দীর্ঘ ২১ কিলোমিটার পথ ঘুরে কাজীবাচা নদীর মাথাভাঙ্গা এলাকায় মিশেছে। 

মাত্র ২০০ মিটার প্রস্হ নালুয়ার গভীরতা ছিল ১০০ মিটারেরও বেশি। নদীর খরস্রোতার গর্জন রাতে ঘুমন্ত মানুষকে কাপিয়ে তুলত। বর্ষায় সে যেন দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে। শীতে ছিল নববধূর মত শান্ত। ষড়ঋতুতে নৌকার পাল তুলে সমস্ত দিন-রাত মাঝি-মাল্লারা ছুটে চলেছে জেলা শহর থেকে বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে। মাঝি-মাল্লারা মালামাল নিয়ে খুলনা-মোংলা বন্দর ছুটোছুটি করেছে। এক সময়ে খুলনা থেকে ঢাকাগামী রকেট এ পথেই চলেছে।

বটিয়াঘাটা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের তিনটি দখল করে নালুয়ার অবস্থান ছিল। দক্ষিণাংশে উৎপত্তি স্থলেই রয়েছে ভান্ডারকোট ইউনিয়ন। মাঝের দিকে বালিয়াডাঙ্গা এবং শেষাংশে আমীরপুর ইউনিয়ন। নালুয়া নদীতে ছিল তিনটি খেয়া।  বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ বটিয়াঘাটা থানায় আসতে এসব খেয়ায় উঠতেন। তীব্র স্রোতে অনেক সময় খেয়া নদীতে ডুবে যেত। নালুয়া নদীতে ছিল প্রচুর ইলিশ মাছ। রাত-দিন বিভিন্ন জাল দিয়ে প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ এ নদীতে মাছ ধরতেন। মানুষের কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠত পুরো এলাকা। আজ সে চিহ্নও যেন ম্লান হয়ে গেছে। দুই তীরসহ পুরো নদী দখল করে নালুয়ার বুকে এখন গাছপালা ঘরবাড়ি। শুধু শেষ চিহ্নটুকু হিসেবে রয়েছে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য ছোট একটি নালা। 

উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান বলেন, নালুয়া নদী প্রায় ২৫-৩০ বছর আগে ভরাট হয়ে গেছে। যে কারণে এলাকার কৃষকের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি মৌসুমে বৃষ্টি কম হওয়ায় কৃষকরা এখনো বীজতলা তৈরি করতে পারেনি। নদীটি দ্রুত খনন করা প্রয়োজন। 

সার্বিক বিষয় নিয়ে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, সরকারিভাবে ৬৪ জেলায়ই নদী ও খাল খনন প্রকল্পের মাধ্যমে হয়ে আসছে। আগামী ডিসেম্বরের পর নালুয়া নদী খননকাজ শুরু হবে। তখন কৃষকদের উপকার হবে। 

ইত্তেফাক/এআই