বিনিয়োগে গতি আনতে থাকছে পদক্ষেপ

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ২২:৫৩

দেশে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরেই বহু আলোচনা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি। তবে আগামী বছরগুলোতে বিনিয়োগে গতি আনতে বাজেটে কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। অপ্রদর্শিত অর্থ ১০ শতাংশ কর দিয়ে উত্পাদনশীল খাতে বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী। এটি বাস্তবায়ন হলে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে আসতে উত্সাহিত হবে। এছাড়া শিল্পের কর অবকাশ সুবিধা (হ্রাসকৃত হারে কর দেওয়ার ব্যবস্থা) আরো পাঁচ বছর বাড়তে যাচ্ছে। কারখানায় ব্যবহার হওয়া কিছু যন্ত্রপাতি ও বর্জ্য শোধনে (ইটিপি) ব্যবহার হওয়া যন্ত্রপাতির উপর আমদানি শুল্ক কমতে পারে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীর ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয় করমুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয় করমুক্ত। স্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের অসম প্রতিযোগিতার হাত থেকে রক্ষা করতে বন্ড সুবিধা আনা কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি রোধে ঘোষণা থাকছে। শিল্পে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগের পাশাপাশি অর্থপাচার রোধে কিছু উদ্যোগের ঘোষণা থাকতে পারে। 

আগামী বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। বাজেটের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বাজেটে আনা বিভিন্ন পরিবর্তন ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং (আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা) শেষে এখন ছাপার জন্য বিজি প্রেসে রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরে স্থানীয় বিনিয়োগ বাড়াতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। বেশি চাহিদা আছে, এমন কাঁচামাল আমদানিতে রাজস্ব ছাড় দেওয়া হতে পারে। অপ্রদর্শিত অর্থ সহজ শর্তে বিনিয়োগের সুযোগের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে ঐ সূত্র জানিয়েছে, দেশে অর্থ বিনিয়োগের এবং আয় করা অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থাকলে অর্থ পাচার কমবে। একই সঙ্গে অর্থ পাচার রোধে আইনি ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। অর্থ পাচার রোধে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে। অবশ্য হ্রাসকৃত কর পরিশোধের মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার একটি উদ্যোগ অর্থ মন্ত্রণালয় নিলেও তা শেষ পর্যন্ত হচ্ছে না।

বর্তমানে বৈধভাবে আয় কিন্তু কর ফাইলে দেখানো হয়নি (অপ্রদর্শিত অর্থ) এমন অর্থ প্রযোজ্য হারে কর প্রদানের পর উক্ত করের উপর আরো ১০ শতাংশ জরিমানা দিয়ে যে কোনো খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈধ করা যায়। এক্ষেত্রে এনবিআর কোনো প্রশ্ন করে না। এবার ১০ শতাংশ কর দিয়েই তা বৈধ করা যাবে। যদিও ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে বর্তমানে করহার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ। সূত্র জানিয়েছে, অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার বিদ্যমান সুযোগে তেমন সাড়া মেলেনি। এ ধরনের অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আয়কর বিভাগ দায়মুক্তি দিলেও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) অন্যান্য সংস্থা দায়মুক্তি দেয়নি। অর্থাত্ ঐসব সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারে। ফলে সম্ভাব্য হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহী হননি।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর অবকাশ সুবিধা চলতি জুনে শেষ হচ্ছে। এটি আরো পাঁচ বছর বেড়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত হচ্ছে।