পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। কমিশনের তথ্য পাচার ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ ব্যাপারে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ গতকাল সোমবার বলেন, কমিশনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও তথ্য পাচারের অভিযোগে তাকে (এনামুল বাছির) সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের আলাদা তদন্ত হবে।
দুদক চেয়ারম্যান আরো বলেন, এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ সেটি অসদাচরণ। এতে দুদক বিব্রত নয়। ব্যক্তির দায় প্রতিষ্ঠানের নয়। দুদকের ৮৭৪ জন কর্মীর সততার নিশ্চয়তা কমিশন দিতে পারে না। এনামুল বাছিরের সঙ্গে ডিআইজি মিজানুর রহমানের কথোপকথন নিশ্চিত হতে অডিও রেকর্ডের ফরেনসিক পরীক্ষা করতে হবে। তা ছাড়া মিজানুর রহমান ঘুষ দিয়েছেন প্রমাণিত হলে দুদক মামলা করবে। অন্যায় করলে কেউ ছাড় পাবে না। ইকবাল মাহমুদ আরো বলেন, ডিআইজি মিজানুর রহমানের দুর্নীতি তদন্তে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, গত রবিবার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজে সম্প্রচারিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি অনুসন্ধান থেকে তাকে দায়মুক্তি দিতে তার কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণে সমঝোতা করেন। তিনি ৪০ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ লাখ টাকা ঢাকার রমনা পার্কে, বাজারের ব্যাগে করে ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে গ্রহণ করেন এবং অবশিষ্ট ১৫ লাখ টাকা পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। ছেলেকে স্কুলে আনা-নেওয়ার জন্য তিনি গ্যাসচালিত একটি গাড়ি দাবি করেন। এছাড়া তিনি কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবৈধভাবে পাচার করেন।
প্রতিবেদনটি কমিশন আমলে নিয়ে গত রবিবারই দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন— লিগ্যাল অনুবিভাগের মহাপরিচালক মফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও প্রশাসন অনুবিভাগের মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান। গতকাল সোমবার বিকাল ৩টায় ঐ কমিটি কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। কমিশন প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দুদকের তথ্য অবৈধভাবে পাচার, চাকরির শৃঙ্খলা ভঙ্গ সর্বোপরি অসদাচরণের অভিযোগে পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পুলিশের উচ্চপদে থেকে তদবির, নিয়োগ, বদলিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ পায় দুদক। অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানের জন্য গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি কমিশনের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে বাদ দিয়ে পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় কমিশন।
দুদক সূত্র আরো জানায়, খন্দকার এনামুল বাছির ১৯৯১ সালে অ্যান্টি করাপশন অফিসার (এসিও) হিসেবে তত্কালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে যোগ দেন। দুর্নীতি দমন কমিশন গঠিত হওয়ার পর তিনি সহকারী পরিচালক, উপ-পরিচালক ও পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান।
