কোরীয় উপদ্বীপে কি যুদ্ধ আসন্ন 

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২২, ২১:৩৯

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দাবি করেছেন, দেশটির পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহারের জন্য তারা এখন তৈরি। কোরিয়ান যুদ্ধের বার্ষিকী উদযাপনের এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবার সময় কিম আরও বলেন, তার দেশ এখন আমেরিকার সঙ্গে "যে কোনরকম সামরিক সংঘাত মোকাবেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।" রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি কেসিএনএ এই খবর দিয়েছে। 

উত্তর কোরিয়া সম্ভবত তাদের সপ্তম পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন একটি খবর নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কিম এই মন্তব্য করলেন। এদিকে গত মাসেই আমেরিকা সতর্ক করেছে, উত্তর কোরিয়া যেকোনো সময়ে সপ্তম পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর জন্য তৈরি হচ্ছে। 

বিবিসি নিউজের রুপার্ট উইংফিল্ড-হেইস বলছেন, কোরীয় উপদ্বীপে একটা 'যুদ্ধ আসন্ন' কিম জং উনের এমন হুঁশিয়ারিমূলক মন্তব্য বেশ ভীতিকর। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার মন্তব্যগুলো সচরাচর বেশ জ্বালাময়ী হয়ে থাকে-বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য বার্ষিকীগুলোতে তারা যেসব মন্তব্য করে। 

তবে তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়লকে নিয়ে উত্তর কোরিয়ার প্রশাসন কতটা ক্ষুব্ধ কিমের এই মন্তব্য তার একটা স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।

মে মাসে ক্ষমতা হাতে নেবার পর প্রেসিডেন্ট ইউন নতুন এবং আরও আগ্রাসী প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন। পিয়ংইয়াংয়ের দিক থেকে কোনরকম পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি আসন্ন এমন মনে হলে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীকে আগেই প্রতিরোধী হামলা চালানোর ছাড়পত্র এতে দেয়া হয়েছে। 

তথাকথিত এই "কিল চেইন" কৌশলের অধীনে দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার লক্ষ্যবস্তুগুলো টার্গেট করে অগ্রিম ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান হামলা চালাতে পারবে, যাতে উত্তর কোরিয়ার কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো আগেভাগেই ধ্বংস করে ফেলা যায়।

উইংফিল্ড-হেইস বলছেন, এর সোজা অর্থ হল খোদ কিম জং উনকে হত্যা করা। 

মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে আমেরিকার দিক থেকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের ব্যাপারে অনাগ্রহেও অসন্তুষ্ট উত্তর কোরিয়া। 

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, এসব থেকে এমন একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে যে উত্তর কোরিয়া তার ক্ষোভ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে একটা অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। বিবিসি

ইত্তেফাক/এসআর