বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সরবরাহ বাড়ছে ইলিশের দামও কমছে কিছুটা

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২২, ০৭:৩০

সাগরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় রাজধানীর বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। আর সরবরাহ বাড়ায় দাম কমছে। তবে ঈদের আগে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া কাঁচা মরিচের দাম এখনো কমেনি। এছাড়া বেশির ভাগ সবজির দাম চড়া। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, শান্তিনগর বাজারসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন পণ্যে দামের এ চিত্র পাওয়া যায়।

গতকাল বাজার গিয়ে দেখা যায়, ইলিশের সরবরাহ বেশ বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সাগরে মাছ ধরার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা গত শনিবার উঠে যাওয়ায় হাজার হাজার জেলে এখন মাছ ধরতে সাগরে চলে গেছেন। সাগরে প্রচুর মাছও পাওয়া যাচ্ছে। সেজন্য বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। দামও কমতির দিকে। তবে ইলিশ গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেছেন, বরিশাল, চাঁদপুরের ইলিশ এখনো সেভাবে ধরা পড়েনি। সাগরেই বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। তবে এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।

গতকাল বাজারে বিভিন্ন আকারের ইলিশের মধ্যে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা ও ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

গতকাল রাজধানীর শান্তিনগর বাজারের মাছ ব্যবসায়ী করিম ভূঁইয়া বলেন, বাজারে তো এখন ইলিশের ব্যাপক সরবরাহ। তার প্রমাণও পাওয়া গেল বাজারেই। বেশির ভাগ মাছ ব্যবসায়ীর কাছেই রয়েছে ইলিশ। করিম বললেন, সামনে ইলিশের দাম আরো কমবে। এদিকে রাজধানীর আড়ত থেকে কিনলে খুচরা বাজারের চেয়ে বেশ কমে কেনা যায়।

আব্দুল্লাহপুর আড়তে গিয়ে দেখা গেল ইলিশের আকারভেদে কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা কম। এই আড়তের মাছ ব্যবসায়ী সেলিম বলেন, প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। তাই প্রতি কেজি ইলিশে আগের তুলনায় ২০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। যেভাবে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়ছে, তাতে সামনে দাম আরো কমবে।

বাজারে অন্যান্য মাছের মধ্যে কাতল, রুই ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, পাঙাশ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, শিং ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের কই ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা, বড় আকারের শৈল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচসহ সব ধরনের সবজির দাম চড়া। ঈদের আগে বেড়ে যাওয়া কাঁচা মরিচের দাম এখনো কমেনি। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা। কাঁচা মরিচের পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দামও চড়া।

গতকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গাজর ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, টম্যাটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পটল ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে নতুন আসা শিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজিতে। তবে করলা, কচুর লতি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা দাম গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় একই রয়েছে। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি করলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙে, চিচিঙ্গাও ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

সবজির বাড়তি দামের প্রসঙ্গে শান্তিনগর বাজারের ব্যবসায়ী রাকিব উদ্দিন বলেন, বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেক সবজিখেত নষ্ট হয়ে গেছে। তাই সবজির সরবরাহ তুলনামূলক কম। দাম বেশি। গত সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে দাম কমে আসবে বলে আশা করছি।

ইত্তেফাক/এএইচপি