মিথ্যা অপবাদে বৃদ্ধের গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর অভিযোগ

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২২, ২১:০৮

রংপুরের কাউনিয়ার হারাগাছে সালিশ করে মিথ্যা অপবাদে বৃদ্ধের গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৯ জুলাই) বিকেলে হারাগাছ ইউনিয়নের ধুমগাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্ত ভোগীর স্বজনেরা। সর্বশেষ শনিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় বিচারক মনির হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে ভুক্তভোগী ব্যক্তি তার পুত্রবধূর ঘরে ঢুকেছেন বলে অভিযোগ তোলেন ধুমগাড়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে মনির হোসেন (৩৫) ও কয়েকজন। এঘটনায় তাকে সামাজিকভাবে একঘরে করার জন্য মসজিদ কমিটির নামে এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়। একইদিন বিকেলে ধুমগাড়া জামে মসজিদের সামনে একটি খোলা মাঠে মসজিদ কমিটির সদস্যসহ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বসে।

ধুমগাড়া গ্রামের নাজমুল হোসেন নামে এক বাসিন্দা বলেন, বিচারের নামে সালিশে ওই ব্যক্তিকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর নির্দেশ দেন হারাগাছ পৌরসভার টাংরির বাজার এলাকার আব্দুর রৌফ। এরপর মনির হোসেন ও রাসেলসহ আরও এক যুবক ভুক্তভোগীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে বাজারে ঘোরাতে শুরু করলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে গলা থেকে জুতার মালা ছিঁড়ে ফেলি।এসময় মনির সহ কয়েকজন যুবক আমাকেও মারধর করার জন্য চড়াও হয়। এসময় সালিশে আসা লোকজন ক্ষিপ্ত হলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মনির হোসেনের সঙ্গে ভুক্তভোগীর টাকা-পয়সা নিয়ে পূর্ববিরোধ ছিল। এরই জেরে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে তাকে হেয় করার জন্য মনিরসহ আরও কয়েকজন সালিশের আয়োজন করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, স্থানীয় মাতব্বর হিসেবে মসজিদ কমিটির সদস্য মনিরসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিভিন্ন মানুষকে সালিশের নামে হয়রানি করে আসছেন।

ভুক্তভোগীর পুত্রবধূ বলেন, ওইদিন রাতের অন্ধকারে কেউ একজন আমার ঘরে ঢুকেছিল। এসময় আমার স্বামী ঘরে ছিলেন না। তখন চিৎকার দিলে ওই লোক পালিয়ে যায়। ঘর অন্ধকার থাকায় কে ঢুকেছিল তা চেনা যায়নি। তবে আমার শ্বশুর ঢুকেছিল বলে বিশ্বাস হয়না।

ভুক্তভোগীর ছেলে আব্দুর রহিম বলেন, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমার বাবাকে ডেকে এনে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। এখন আমরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।

বিচারক মনির হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাতের অন্ধকারে পুত্রবধূর ঘরে ঢোকার বিষয়ে স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বসেছিল তা ঠিক। তবে তার নির্দেশে জুতার মালা পরানো হয়নি। পাশের গ্রামের আব্দুর রৌফের নির্দেশে সেখানে উপস্থিত উত্তেজিত লোকজন তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে মসজিদের মাঠ ঘোরায় দেন।

এই অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুর রৌফ বলেন, সালিশে উপস্থিত ছিলাম তা ঠিক। তবে জুতার মালা পরানোর নির্দেশ দিইনি।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযুক্ত মনিরকে শনিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি