বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কাঁচামালের সংকটে তালায় হারিয়ে যাচ্ছে মাদুরশিল্প

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২২, ০১:৪৯

তালা উপজেলার এক সময়ের প্রাচীনতম মাদুরশিল্প বিলুপ্ত হতে চলেছে। কাঁচামাল সংকট এবং বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলার ঐতিহ্যবাহী এই কুটির শিল্পটি অচিরেই বিলুপ্ত হতে চললেও খোঁজ পাওয়া গিয়েছে সুনীল মণ্ডল নামের এক ব্যক্তির। যিনি প্রায় ৭০ বছর ধরে তালা উপজেলা জুড়ে মাদুর বিক্রি করছেন। তিনি তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মাদরা গ্রামের হরেন মণ্ডলের পুত্র। তার বয়স শত বছর পেরিয়েছে। 

জানা গেছে, এ অঞ্চলের ২০০ থেকে ৩০০ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস ছিল এ মাদুরশিল্প। প্লাস্টিকশিল্পের বিপ্লব, প্রয়োজনী উপকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় বিলুপ্ত হতে চলেছে মেলের (এক ধরনের ঘাস) তৈরি মাদুর। মাদরা গ্রামের শত বছর বয়সি সুনীল মণ্ডল জানান, ‘আমাদের গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের নারী-পুরুষ মাদুর বুননের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু এখন আর তেমন কেউ মাদুর তৈরি কিংবা বিক্রি করে না। আমি প্রায় ৭০ বছর ধরে মাদুর বিক্রি করি। আমার দুই পুত্র সন্তান ও ১ কন্যা সন্তান আছে। বড় ছেলে ব্যবসা ও ছোট ছেলে মাছ চাষ করে।’ আপনি এখনো কেন মাদুর বিক্রি করেন এমন প্রশ্ন করা হলে সুনীল মণ্ডল বলেন, এটা আমাদের বাপদাদার পেশা। ইচ্ছা হলেও ছাড়তে পারি না। তাই সকাল হলে মাদরা গ্রাম থেকে প্রায় সাত-আট কিমি রাস্তা পাড়ি দিয়ে তালা বাজারে হেঁটে আসি। যদি মাদুর বিক্রি হয় ভালো, না হলে আবার বাড়ি ফিরে যাই। 

অন্যরা কেন মাদুর বিক্রয় ছেড়ে দিলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেও প্রতি কাউন মেলের দাম ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। ফলে এক জোড়া মাঝারি ধরনের মাদুর উৎপাদনে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। অথচ বাজারে এ মাদুরের প্রতি জোড়ার পাইকারি দাম ৮০০ টাকা। এতে এক জোড়া মাদুরে ২০ থেকে ৩০ টাকার বেশি লাভ থাকছে না। ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিহার রঞ্জন, পরিমল কুমার, দীনেশ কুমার মণ্ডলসহ এলাকার কয়েক জন বলেন, প্রায় ২০০ বছর পূর্বে আমাদের দাদা, তার দাদা এই মাদুর শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বাবা-দাদরাও এই পেশায় জড়িত ছিলেন। বর্তমানে মাদুর তৈরি করতে মেলের দাম আকাশছোঁয়া। তাই কাঁচামাল সংকট এবং বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় প্রাচীনতম মাদুরশিল্প বিলুপ্ত হতে চলেছে। সরকার যদি ভতু‌র্কি প্রদানপূর্বক শিল্পটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে তাহলে অনেকেই এই পেশায় পুনরায় ফিরে আসতেন বলে জানান তারা। তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, মেলে চাষ কিংবা মাদুর তৈরির জন্য কোনো ভতু‌র্কি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রদান করা হয় না।

ইত্তেফাক/ইআ