বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দক্ষ শিক্ষক ও নতুন শিক্ষাক্রমের বাস্তবায়ন

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২২, ০১:৩৩

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। যে কোনো জাতির উন্নতির জন্যই শিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তাই বাংলাদেশের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে নতুন শিক্ষাক্রম। নতুন এ শিক্ষাক্রমে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। গতানুগতিক মুখস্হনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলিত মাধ্যম থেকে বেরিয়ে এসে এ শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতাভিত্তিক বাস্তবধর্মী শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। শিক্ষাক্রমের এ পরিবর্তনের হাত ধরে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা সমৃদ্ধ ও বাস্তবমুখী হবে।

শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এ শিক্ষাক্রম পূর্ববর্তী শিক্ষাক্রমগুলোর থেকে অধিক সফল হবে বলে আশা করা যায়। এ শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন এবং শিখন-শিক্ষণ পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। শুধু পরীক্ষানির্ভর মূল্যায়ন না রেখে তাদের শ্রেণিকক্ষের কাজের ওপর ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। পরীক্ষাভীতি কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শিখতে সাহায্য করবে এ শিক্ষাক্রম। বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্লেষণ করলে আমরা একটা বিষয় লক্ষ্য করতে পারি যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের পঠিত বিষয়গুলোর সঙ্গে আমাদের কর্মজীবনের তেমন সম্পর্ক থাকে না। অর্থাৎ আমাদের শিক্ষা বাস্তবমুখী না, মুখস্থনির্ভর, সনদকেন্দ্রিক।

কিন্তু নতুন শিক্ষাক্রমে মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে আনা হয়েছে, যা আমাদের বাস্তবদক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূলে এবং শিক্ষার্থীরা নবম-দশম শ্রেণি শেষে যে কোনো একটি পেশায় পেশাদারি দক্ষতা অর্জন করতে পারবে, যা শিক্ষার্থীদের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিষয়ভিত্তিক বাস্তবধর্মী দক্ষতা অর্জন আমাদের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে। তবে এই সময়োপযোগী শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে শিক্ষকরা।

একটি শিক্ষাক্রমের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে শিক্ষকদের ওপর, তাদের শিখনকৌশল এবং বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার ওপর। শিক্ষাক্রম সমৃদ্ধ হলেও যদি শিখনকৌশল যথাযথ না হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা তা ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে না এবং বাস্তবজীবনে তা প্রয়োগ করতে পারে না। ফলে শিক্ষাক্রম কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়। আনন্দঘন, চাপমুক্ত পরিবেশে শিক্ষার্থীরা একটি বিষয় যেমন ভালো বুঝতে পারে, সেই বিষয় যদি তাকে না বুঝে মুখস্থ করতে হয়, তাহলে তা তাদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।

এক্ষেত্রে শিক্ষকের শিখনপদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই নতুন শিক্ষাক্রম যথাযথভাবে বাস্তবয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে তাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ শিক্ষক না থাকলে এ শিক্ষাক্রমও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হবে। এছাড়াও শিক্ষা খাতের স্থায়ী উন্নয়নের জন্য দেশের শীর্ষ স্থানীয় মেধাবীদের এখাতে কাজ করতে উত্সাহিত করতে হবে এবং তাদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। একজন সুন্দর মানুষ হতে এবং একটি মননশীল জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকরা হলে জাতি গড়ার কারিগর, আলোকিত মানুষ।

তবে আমাদের দেশে এ মহান পেশার প্রতি খুব একটা আগ্রহ লক্ষ করা যায় না মেধাবীদের মধ্যে। এর অন্যতম কারণ আমাদের সামাজিক অবস্থা এবং অন্যান্য পেশার তুলনায় শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি। দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্র দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। একজন অদক্ষ শিক্ষক একটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে কয়েক ধাপ পিছিয়ে দিতে যথেষ্ট। তাই জাতীয় স্বার্থে এ বিষয়ে আমাদের সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। সর্বোপরি নতুন শিক্ষাক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ইত্তেফাক/এমআর