শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

টেকসই অর্থায়ন বেগবান হোক 

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২২, ০৪:৫৬

বাংলাদেশেও তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। অসহ্য গরমে মানুষের নাভিশ্বাস অবস্থা। এরই মধ্যে মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওড়ে কিছুদিন আগে শক্তিশালী জলজ টর্নেডো আঘাত হানে। ভাগ্যিস এটি ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়েনি। নইলে মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যেত। কেননা এর কেন্দ্রে বায়ুর গতিবেগ ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এ ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় বেশি ঘটছে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে দেশে দেশে খাদ্য ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সারা বিশ্বে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষুধার ঝুঁকিতে ৮০ কোটি এবং না খেয়ে মরার ঝুঁকিতে রয়েছে ৩২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ। একদিকে বিশ্বব্যাপী প্রকৃতির তাণ্ডব অন্যদিকে অর্থনৈতিক দৈন্যদশা। সব মিলিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ছে বিশ্বব্যবস্থা। বিশ্বব্যাপী উদ্ভূত নানা সংকট নিরসনে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে টেকসই অর্থায়ন। আর্থিক ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগের সময় পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন বিবেচনায় নিয়ে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রণয়নের প্রক্রিয়াই টেকসই অর্থায়ন। অর্থাৎ পরিবেশবান্ধব প্রকল্প করতে হবে, যা একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ করবে আবার অর্থনীতিকেও সচল রাখবে। বিশ্বের ৮৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে, যা ব্যাপক কার্বন নিঃসারণ ঘটিয়ে জলবায়ুতে তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অবশ্য কার্বনের মাত্রা শূন্যের কোঠায় আনতে বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যে নানা পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়।

আমাদের নবায়নযোগ্য উৎসের সন্ধান করতে হবে। সৌরশক্তি, বায়ুপ্রবাহ, সমুদ্রের ঢেউ, জলপ্রবাহ প্রভৃতি নবায়নযোগ্য উৎস ব্যবহার করে আমরা বিদু্যত্ উৎপাদন করতে পারি। এতে করে খনিজ জ্বালানির ওপর চাপ কমবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সবার আগে প্রয়োজন বৈশ্বিক জলবায়ুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আর এক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার অপরিহার্য। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য উত্সগুলো ব্যবহারের জন্য অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা অনেক ধাপ এগিয়ে যেতে পারব। ফলে খনিজ জ্বালানি সাশ্রয় হবে। টেকসই জ্বালানি পরিকল্পনা বৈশ্বিক সংকট অনেকাংশেই লাঘব করবে। খাদ্য উৎপাদনে প্রচুর রাসায়নিক উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে। এর পরিবর্তে জৈবসারের ব্যবহার বাড়িয়ে দিতে হবে। প্রত্যেক দেশে টেকসই উপায়ে অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে দিলে এবং মজুত না করে খাদ্য সরবরাহ বৃদ্ধি করা হলে খাদ্যসংকটও কেটে যাবে। ফলে কমে যাবে মুদ্রাস্ফীতিও।

প্রত্যেকটা শিল্পের যথাযথ করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি মেনে চলতে হবে। কেবল উৎপাদন বাড়ানো কিংবা জিডিপি সম্প্রসারণ করলেই হবে না। উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে পৃথিবীর মাটি, জল, বনভূমি, জলাধার বিপর্যস্ত হচ্ছে কি না, তা বিবেচনায় নিতে হবে। অর্থনীতির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও জরুরি। বিশ্বব্যাপী যে সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা বন্ধ করা অত্যাবশ্যক। যুদ্ধক্ষেত্রে জীবনবিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহারের ফল কিন্তু প্রকৃতিকেই বহন করতে হচ্ছে, যা গোটা বিশ্বের মানবসভ্যতার জন্যই ক্ষতিকর। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে টেকসই অর্থায়ন বেগবান হবে। অবশ্য বাংলাদেশেও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংক ঋণের ১০ শতাংশই এখন টেকসই অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী এই ধারণা ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কেননা পরিবেশকে সুস্থ রাখা গেলে অর্থনীতি স্বাভাবিকভাবেই সচল হয়ে উঠবে।

হ লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় ব্যক্তি পর্যায়ের ভূমিকা 

আশার আলো ‘সৌরবিদ্যুৎ’ 

সাশ্রয়ী হতে হবে সব ক্ষেত্রে 

রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় সচেতনতা জরুরি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিদ্যুতের মূল্য