শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জবির সেই ১৭০০ শিক্ষার্থীর কী অপরাধ

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২২, ১৬:২৮

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ পেলেও আইটি ও বৃত্তি দপ্তরের রেষারেষিতে সম্পূর্ণ বেতন দিয়েই ভর্তি হতে হচ্ছে বৃত্তি প্রাপ্ত সবাইকে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য মতে, ভর্তির মেয়াদ শেষ হলেও তাদের অবৈতনিক মেধাবৃত্তির তালিকা প্রকাশ করেনি আইটি দপ্তর। আইটি দপ্তর বলছে, তাদের দায়িত্ব সফটওয়্যার তৈরি করা, শিক্ষার্থীদের তালিকা আপলোডের দায়িত্ব বৃত্তি শাখার। 

এদিকে কোন সুরাহা না পেয়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়েই সম্পূর্ণ টাকা দিয়েই ভর্তি হতে হচ্ছে। এভাবে স্নাতক প্রথম বর্ষ থেকে স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা একই ভোগান্তির শিকার। স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের বৃত্তি প্রাপ্ত একাধিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের শিক্ষাবর্ষের শেষ সময়ে এসে তারা বাধ্য হয়েই পুরো টাকা দিয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। এতে তারা আশঙ্কা করছে তাদের বৃত্তির টাকার কি হবে?

ভোগান্তিতে শিকার ২০১৮-১৯ বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব হাসান বলেন, আমার ভর্তির তারিখ আজকেই শেষ কিন্তু আমি এখনো ভর্তি হতে পারিনি। আমরা আইডিতে এখনো বৃত্তির বিষয়ে আপলোড করা হয়নি। আজও যদি আপলোড করা না হয় তাহলে হয়তো আমার সম্পূর্ণ টাকা দিয়েই ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আর আমি যদি সম্পূর্ণ টাকা দিয়ে ভর্তিই হয়ে যাই তাহলে আমার বৃত্তি পেয়ে লাভটাই কি হলো?

ভোগান্তিতে শিকার আরেক শিক্ষার্থী লিজা আক্তার বলেন, আমি এবছর বৃত্তি পাই। কিন্তু সার্ভারে সমস্যার কারণে আমি আমার আইডিতে ঢুকতেই পারিনি। আমি সেখানে গিয়ে যে দেখবো আমার আইডিতে অবৈতনিক বৃত্তির টাকা যুক্ত হয়েছে কিনা তাও দেখতে পারিনি ও টাকাও জমা দিতে পারিনি। ওদিকে আমার ভর্তির তারিখও শেষ হতে চলছে। 

মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, আমি গত সেমিস্টারে টাকা জমা দিতে সমস্যা হওয়ায় একটা ইম্প্রুভমেন্ট এক্সাম দিতে পারিনি। এবার এখনো ভর্তি টাকা জমা দিতে পারছিনা। আইটিতে মেইল করছি, বিভাগেও জানিয়েছি। আইটিতে গিয়ে দেখা করছি একবার তবুও একই অবস্থা। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইসিটি সেলের সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার হাফিজ উল্লাহ বলেন, আমাদের কাজ সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার তৈরি করে দেয়া। আর ডাটা আপলোডের দায়িত্ব স্ব স্ব দপ্তরের। সফটওয়্যার অনেক আগে তৈরি করে তাদের বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন এর দায়ভার আমাদের উপর বর্তায় না।

এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা ডেপুটি রেজিস্ট্রার আশরা উন আকতার তুহিন বলেন, প্রতি বছর বৃত্তির এ কাজটি আইসিটি দপ্তরের মাধ্যমে করা হয়। সে মোতাবেক আমরা গত ২২ জুন ওই দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু তারা সেটি প্রকাশ করেনি। এমনকি আমাদেরকেই এই কাজ করতে হবে। আর আমরা যে কাজটি করবো, আমাদের নেই কোন আইটি পারদর্শী জনবল। তাই হঠাৎ করে আমাদের এ কাজ দিলে তো তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়বে আরও ভোগান্তিতে। শিক্ষার্থীরা তাদের সমস্যার কোন সমাধান না পেয়ে আমাদের কাছে বারবার আসলে আমরা রেজিস্ট্রার দপ্তরে জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে দুই পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। খুব দ্রুত শিক্ষার্থীদের তথ্য সফটওয়ারে আপলোড করা হচ্ছে। আশাকরি দ্রুতই এর সমাধান হয়ে যাবে।

 

 

 

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

গুচ্ছ মানবিকের পরীক্ষা ১৩ আগস্ট, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

গুচ্ছ বিজ্ঞান ইউনিটের ফল প্রকাশ

পুরান ঢাকায় জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ 

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা: শর্ট সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন আসায় শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

গুচ্ছ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া অভিভাবকদের 

গুচ্ছ বিজ্ঞান অনুষদের ফল কবে?

জবিতে পরীক্ষার সুযোগ পেয়েছেন ভিন্ন কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা

গুচ্ছ ভর্তিপরীক্ষার জন্য প্রস্তুত জবি, ৯ কেন্দ্রে হবে পরীক্ষা