শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

খানসামায় জনপ্রিয় হচ্ছে বিষমুক্ত সবজি চাষ

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২২, ১৯:৪৯

কৃষি ক্ষেত্রে সবজি চাষে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও নানা ধরনের কীটনাশক ব্যবহারে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। কিন্তু সার ও কীটনাশকমুক্ত সবজি খাওয়ার কথা শুধু ভাবাই যায়, কিন্তু পাওয়া যায় না। এর মধ্যেই নিরাপদ সবজি চাষ করছেন খানসামা উপজেলার বাসুলীসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষক।

এ সবজি চাষে ব্যাপক সফলতা পাওয়ায় তা কৃষক ও কৃষাণিদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। চলতি মৌসুমেও বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন তারা। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব, রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক ছাড়াই এসব সবজি চাষ করা হচ্ছে। তবে এসব সবজির দাম অন্য সবজির তুলনায় কিছুটা বেশি বলে জানান কৃষকরা। 

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, উপজেলায় মোট ৪ দশমিক ৮ একর জমিতে নিরাপদ সবজি চাষ হয়েছে। এতে সার্বক্ষণিক কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। উপজেলার বাসুলী, শুশুলী ও ফরিদাবাদসহ বিভিন্ন গ্রামে চাষ হচ্ছে বিষমুক্ত চালকুমড়া, করলা, পটোল, শসা, বেগুন ও পানিকুমড়া।

সরেজমিনে দেখা যায়, খেতের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে সেক্সফেরোমন ফাঁদ। পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করতে এ ফাঁদে স্ত্রী পোকার শরীর থেকে নিঃসৃত এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ বা স্ত্রী পোকার গন্ধ ব্যবহার করা হয়। এর ফলে পুরুষ পোকা ফাঁদের দিকে ধেয়ে আসে এবং ফাঁদে পড়ে মারা যায়। এতে জমির ফসল পোকামাকড় থেকে রক্ষা পায়। অতীতে এসব কীট দমনে ব্যবহার হতো বিষাক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক। এছাড়াও রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জমিতে ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব সার ও কেঁচো সার। 

বাসুলী গ্রামের কৃষক আহমদ আলী বলেন, কয়েক বছর আগে আমরা জমিতে কীটনাশক স্প্রে করে বিভিন্ন জাতের শাকসবজি আবাদ করেছি। তবে আমরা জানতাম না এতে ফসল বিষাক্ত হয় এবং এসব খেয়ে মানুষ নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হতেন। কৃষি বিভাগের কাছ থেকে জানার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি মানুষকে আর বিষ খাওয়াব না। বর্তমানে আমাদের গ্রামের সবাই নিরাপদ সবজি চাষ করছে। 

একই এলাকার কৃষানি সুমি আক্তার বলেন, বাজারে বিষমুক্ত সবজির দাম বেশি হওয়ায় অল্প খরচে ভালো টাকা উপার্জন সম্ভব হয়। বাজারে এই সবজির চাহিদাও বেশি। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাসুদেব রায় বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্দেশনায় উপজেলায় নিরাপদ সবজি চাষ করতে বাসুলী, শুশুলী ও ফরিদাবাদ গ্রামের কৃষকদের সংগঠিত করে জৈবিক পদ্ধতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসম্মত সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। তারা এর সুফল বুঝতে পেরে এ পদ্ধতিতে আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেন। 

পরে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষক গ্রুপ, উঠান বৈঠকসহ হাতে-কলমে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকেন। এতে একদিকে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে ক্রেতারাও নিরাপদ সবজি পাচ্ছেন। 

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

হিলিতে অর্ধেকে নেমেছে কাঁচা মরিচের দাম 

ধ্বংসের পথে ৩শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘শিবমন্দির’

হিলিতে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ, যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক

ফুলবাড়ীতে কোরিয়ান মেডিক্যাল টিমের দুইদিনব্যাপী দুস্থদের চিকিৎসাসেবা প্রদান 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বঙ্গমাতার জন্মদিনে অসহায় নারীরা পেলেন সেলাই মেশিন  

ফুলবাড়ীতে দেশীয় প্রজাতির মাছ কমছে

করোনার থাবায় অর্ধশত ‘সততা স্টোর’ বন্ধ 

২৭ বছর প্রকৃতির সঙ্গে বসবাস সেকেন্দার বাদশার