বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গর্ভে ফুল রেখে সেলাই, পিরোজপুরে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২২, ০০:৪৮

পিরোজপুর শহরে এক প্রসূতি নারীর সিজারের সময় গর্ভে ফুল রেখে পেট সেলাই করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রসূতিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বলে জানা গেছে। তাকে বাঁচাতে শরীরে ১৪ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়েছে।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার পিরোজপুরের অতিরিক্তি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন প্রসূতির স্বামী জসিম খান। বিচারক মো. ইকবাল মাসুম মামলাটি আমলে নিয়ে ঘটনা তদন্তের জন্য পিরোজপুরের সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন। ভুক্তভোগী মনিরা বেগম (২২) পিরোজপুর শহরতলীর আলামকাঠীর জসিম খানের স্ত্রী। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন স্থানীয় আইডিয়াল ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমের চিকিৎসক ডা. শিকদার মাহমুদ ও ম্যানেজার সঞ্জয় মিস্ত্রী ।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এস ওমান জানান, গত ৮ জুলাই আইডিয়াল ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে ডা. শিকদার মাহমুদের তত্ত্বাবধানে প্রসূতিকে ভর্তি করা হলে ক্লিনিকের ম্যানেজারের চাপে দুপুরেই তার সিজারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ডা. শিকদার মাহমুদ তড়িঘড়ি করে ক্লিনিকে এসে রোগীর সিজার করেন। সিজারের সময়ে রোগীর পেট প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কেটে ফেলেন এবং নবজাতক শিশুর নাভীর অংশ কেটে কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখেন। এছাড়া নারীর গর্ভের ফুলের কিছু অংশ পেটের ভিতরে রেখেই অপরিষ্কার অবস্থায় সেলাই করে দ্রুত চলে যান।

পরে প্রসূতিকে বাড়ি নিয়ে গেলে কয়েক দিন পরেই সিজার স্থান থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তখন সেই নার্সিং হোমে গিয়ে ডা. শিকদার মাহমুদকে বিষয়টি জানালে তিনি রোগীকে কোনো চিকিত্সা না দিয়েই পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। সেখানে রোগীর অবস্থার মারত্মক অবনতি হওয়ায় তাকে খুলনার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খুলনার চিকিৎসকরা রোগীকে করেকটি টেস্ট দিলে তারা দেখতে পান যে গর্ভফুলের অংশ পেটের ভিতরে রেখেই পেট সেলাই করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/ইআ