বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইউরিয়ার দাম বাড়াতে দুশ্চিন্তায় কৃষক

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২২, ০০:০৫

আমন আবাদের শুরুতেই সরকার ইউরিয়া সারের দাম বাড়ানোয় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ধানের জেলা দিনাজপুরের কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন, প্রতিকেজি ইউরিয়ার দাম ছয় টাকা বেড়ে যাওয়ায় এখন একর প্রতি জমিতে আমন আবাদ করতে খরচ বাড়বে ৫০০ টাকা। আর বোরো আবাদে এই খরচের মাত্রা আরো বাড়বে। তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন—দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় ইউরিয়ার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কমবে। উৎপাদিত পণ্যের দাম ভালো পেলে কৃষক তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। উল্লেখ্য, ২ আগস্ট থেকে ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ছয় টাকা বাড়িয়ে ১৪ টাকা থেকে ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।

দিনাজপুর সদর উপজেলার উত্তর মহেষপুর গ্রামের কৃষক সলিল বসাক জানান, প্রতি একর জমিতে আমন আবাদ করতে ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হয় ৮০ থেকে ৯০ কেজি, টিএসপি সার লাগে ২০ কেজি, পটাশ ২০ কেজি, জিংক ২ কেজি এবং সালফারের প্রয়োজন হয় ১ কেজি। আর কীটনাশক প্রয়োগ করতে খরচ হয় ৪ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা। জমিতে হালচাষ, ধান রোপণ থেকে কাটা পর্যন্ত সারসহ সব মিলিয়ে প্রতি একর জমিতে আমন আবাদ করতে খরচ হতো ১৬-১৭ হাজার টাকা। আর আমন ফলন হয় প্রতি একরে ৪০ থেকে ৪৫ মণ। ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তোলাটাও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এর মধ্যে হঠাৎ ইউরিয়া সারের দাম বাড়াতে প্রতি একর জমিতে বাড়তি খরচ করতে হবে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। তাই ধানের ভালো দাম না পেলে লোকসান গুনতে হবে তাদের।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার হাসিলা গ্রামের কৃষক সোহরাব হোসেন জানান, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার বোরো ধানের আশানুরূপ দাম পেয়েছেন তারা। তাছাড়া ভুট্টা আবাদ করে বেশ লাভবান হয়েছেন। ইউরিয়া সারের দাম বাড়াতে উদ্বেগ জানালেও তিনি বলেন, এভাবে আমনের ভালো দাম পেলে তারা তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। একই উপজেলার আজিমপুর গ্রামের কৃষক শান্তি কুমার অধিকারী বলেন, সরকার দাম নির্ধারণ করলেও গ্রাম পর্যায়ে সেই দামে সার কিনতে পারেন না তারা। বাড়তি দামেই তাদের সার কিনতে হয়। এর আগে কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ১৬ টাকা থাকলেও গ্রামাঞ্চলের সার বিক্রেতাদের কাছ থেকে ২০টাকা থেকে ২২ টাকা কেজি দরে ইউরিয়া সার কিনতে হয়েছে তাদের। এবার সরকার ছয় টাকা দাম বাড়ানোতে তাদের হয়তো ৩০ টাকা পর্যন্ত ইউরিয়া সার কিনতে হতে পারে। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য তিনি বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানান।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক (শস্য) মো. খালেদুর রহমান বলেন, কৃষকরা বরাবরাই মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার করে থাকেন। এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করার চেষ্টা করা হলেও কৃষকরা বেশি বেশি ইউরিয়া সার ব্যবহার করে থাকেন। তিনি বলেন, দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় জমিতে মাত্রাতিরিক্ত ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমবে। এতে জমির উর্বরা শক্তিও হ্রাস পাবে না। তাছাড়া বোরো ধানের মতো কৃষক যদি আমনেও ভালো দাম পান তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।

 

ইত্তেফাক/ইআ