বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সেই তকলিস এখন ফুটবল কোচ

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২২, ০৩:৫৪

বার্মিংহামের কভেন্ট্রি রোডে ব্যবসা-বাণিজ্যে বাংলাদেশিদের আধিপত্য বেশ। পথ চলতেই দেখা হবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে। কভেন্ট্রি রোডের এক রেস্টুরেন্টেই দেখা হয় বাংলাদেশের ফুটবলার তকলিস আহমেদের সঙ্গে। স্ত্রীসহ এখন বার্মিংহামেই থাকেন সিলেটের ছেলে তকলিস। করোনা মহামারির মধ্যেই বার্মিংহামে এসে থিতু হয়েছেন জাতীয় দলের এই সাবেক ফুটবলার।

বিদেশ বিভূঁইয়ে থাকলেও ফুটবল ছাড়েননি তিনি। স্থানীয় সল্টলে স্ট্যালিয়ন্স ক্লাবে খেলেন। সর্বশেষ মৌসুমে ১৫ গোল করেছেন। একই ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের কোচ হিসেবেও কাজ করছেন তকলিস।

বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ৬ ম্যাচ এবং জাতীয় দলের জার্সিতে ১১ ম্যাচ খেলে ২ গোল করেছিলেন এই স্ট্রাইকার। ঘরোয়া ফুটবলে টানা ১০ বছর নিয়মিত খেলেছেন তিনি। টিম বিজেএমসি দিয়ে শুরু করে পেশাদার লিগে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, মোহামেডান, শেখ রাসেলে খেলেছেন তকলিস।

মোহামেডানের কোচ শেন লেন, শেখ জামালের কোচ জোসেফ আফুসির কাছ থেকে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার প্রস্তাব পেয়েছেন তকলিস। তবে পরিবার ও ভিসার কাজে অন্তত ৫ বছর ইংল্যান্ড ছাড়া হবে না তার। নিজের বর্তমান অবস্থান জানাতে গিয়ে তকলিস বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। পরিবারকে নিয়ে এখানে খুব ভালো সময় কাটছে। বাংলাদেশ থেকে চলে আসছি দেড় বছর হয়। যেহেতু ফুটবলার ছিলাম, দেশকে অনেক মিস করি।’

তকলিস বলেন, ‘ফিটনেস ধরে রাখতে এখানে ডিভিশন টু’র একটা ক্লাবে খেলছি। ক্লাবের সভাপতি ওবায়েদ ভাই আমাকে সুযোগ দিয়েছেন। ক্লাবটা বার্মিংহাম ডিভিশন টু থেকে ওপরে গেছে। ওয়েস্ট মিডল্যান্ড লিগে প্রবেশ করেছি আমরা। চারটা ক্লাব উঠছে, আমরা তিন নম্বর।’

তকলিস বলেন, ‘আমার ক্লাবেরই ইয়ুথ একাডেমিতে ট্রেনিং করাচ্ছি। অনূর্ধ্ব-১৬ দলের কোচ আমি। বাচ্চাদেরকে ট্রেনিং করাই। অনূর্ধ্ব-১৬, অনূর্ধ্ব-১৮ দল। যারা আফ্রিকান, ইংলিশ তাদেরকে ট্রেনিং করানোর দায়িত্ব আমার।’ জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়েই বাংলাদেশ ছেড়েছেন তকলিস। বলেছেন, ‘২০১৮ সালে মোহামেডানে খেলি, জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার মতো অবস্থায় ছিলাম। প্রথম লেগে আমাদের মাত্র ৭ পয়েন্ট। ফিরত পর্বে আমি এবং আমাদের বিদেশি স্ট্রাইকাররা মিলে আমরা প্রায় ১৭ গোল করেছি। ঐ লিগে যারা আবাহনী, বসুন্ধরা ১-২ গোল করেছে, তারা জাতীয় দলে ডাক পায় সবার আগে, আমাকে ডাকে না। মনটা নষ্ট হয়ে যায়। তখন থেকে আসলে ফুটবল থেকে সরে যাওয়া।’

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন