শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সবুজ আয়াতের খুনসুটি

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২২, ২০:০৫

একটি ডকুমেন্টারি ফিল্মে কাজের সূত্রে পরিচয়। এরপর প্রণয় থেকে পরিণয়। তবে পরিণয়ের পর নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের গল্প, খুনসুটি আর মজার ঘটনা নিয়ে কন্টেন্ট তৈরি করে নেটিজেনদের মন জয় করে চলেছে এই জুটি। বলছি ভিডিও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ওয়াহেদ সবুজ ও রাফেয়াতুল আয়াতের কথা।

শুরুতে কন্টেন্ট তৈরির কোন পরিকল্পনা ছিল না তাদের। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে নিজেদের প্রথম সাক্ষাৎ হওয়ার স্থানে ঘুরতে গেলে সেদিনকার ঘুরাঘুরি আর অতীত স্মৃতি নিয়ে ছোট্ট একটি ভিডিও ক্লিপ তৈরি করেন সবুজ। পরে তা ফেসবুকে আপলোড করলে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এর কয়েকদিন পর আরও একটি স্থানে ঘুরতে গিয়ে সেখানেও ভিডিও তৈরি করেন এই দম্পতি। ফেসবুকে আপলোড করলে অল্পদিনে সেটিও অর্জন করে মিলিয়ন ভিউ। দর্শকরা যেহেতু তাদের ঘুরাঘুরি, আড্ডা আর গল্পের ভিডিও আগ্রহের সাথে দেখছে ও খুব পছন্দ করছে, তাই একপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিলেন নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে ঘটে যাওয়া টুকটাক ঘটনা, মান-অভিমান, হাসি-কান্না, আনন্দ-বিনোদনের অনুকরণে তৈরি করবেন ভিডিও কন্টেন্ট।

সবুজ-আয়াতের ভিডিওতে দেখা যায় তাদের ঘরোয়া পরিবেশের চিত্র। কখনো দেখা যায় সবুজ দেরি করে বাসায় ফিরছে তাই মেকি অভিমান করে বসে আছে আয়াত। আবার ঘরে ফিরে সবুজেরও সরল স্বীকারোক্তি; নিজের দোষ মেনে নিয়ে লেগে পড়ছেন আয়াতের রাগ ভাঙাতে। তাদের এই কথোপকথনে থাকে একটা হাস্যরসাত্মক ভাব, যুক্তি-পালটা যুক্তির খুনসুটি। যা দর্শকদের দারুণ আকৃষ্ট করে।

ইত্তেফাককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সবুজ বলেন, ‘আমাদের বোঝাপড়াটা দারুণ। ক্যামেরা ওপেন করার আগেই পুরো ব্যাপারটা আলোচনা করে প্রস্তুত হয়ে নিই। ক্যামেরা অন হওয়ার পর আমাদের খুব বেশি কাটও করতে হয় না; কেননা আমরা আগেই ভালোভাবে রপ্ত করে ফেলি যে আমরা কী তৈরি করতে চাচ্ছি।’ ভবিষ্যৎ  পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আয়াত বলেন, ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটিং নিয়ে ভিন্ন কিছু করার পরিকল্পনা আছে আমাদের। বিশেষ করে ট্রাভেল ব্লগ তৈরি করতে চাই। পাশাপাশি বিউটি কেয়ার নিয়ে আমার ব্যক্তিগত ভাবে কাজ করার ইচ্ছা আছে।’

বর্তমানে সবুজ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। পাশাপাশি পরিচালনা করেন ‘বানান আন্দোলন’ নামে একটি সংগঠন। আয়াত পড়ালেখা করছেন রাজশাহী সিটি কলেজে। সবুজ ও আয়াত দু’জনের-ই জন্ম কুষ্টিয়াতে। সবুজ পড়েছেন কুষ্টিয়া জেলা স্কুলে। এরপর কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকের পাট চুকিয়ে ভর্তি হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। আয়াত মাধ্যমিক পাশ করেছেন কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে। বর্তমানে এই দম্পতি কুষ্টিয়া শহরে বসবাস করছেন।

ইত্তেফাক/এসটিএম