বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শুদ্ধ কনটেন্ট ক্রিয়েশনে তারুণ্যের বাজিমাত

বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিচিত্র ধরনের কনটেন্ট নির্মাণ করছেন নব প্রজন্মের অনেকে। কেউ শেখান, কেউ সমসাময়িক বিষয়ে বিশ্লেষণ করছেন, কেউ-বা বিজ্ঞানের নানা কিছু ব্যাখ্যা করছেন। তাদের মধ্যে এ সময়ে জনপ্রিয় কয়েকজন সম্পর্কে জানাচ্ছেন ফরিদ উদ্দিন রনি

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২২, ২১:৪৬

বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও নিয়ে রৌশানের ‘ভয়েস অব ঢাকা’
ক্রাইসিস এনালাইসিস, হিস্ট্রি, সায়েন্স টেক, ফিচার ও সেল্ফ ডেভেলপমেন্টসহ নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী ইনফোগ্রাফি ভিডিও নিয়ে খুব দ্রুত সময়ে সবার নজর কাড়ে ‘ভয়েস অব ঢাকা’ ইউটিউব চ্যানেলটি। শুদ্ধ সাবলীল বাচনভঙ্গিতে উপস্থাপন এবং অসাধারণ ইনফোগ্রাফি এডিটিংয়ের কারণে সবার প্রিয় হয়ে ওঠে চ্যানালটি। এটির ক্রিয়েটর রৌশান তাইন। ভিডিও-তে ভয়েস দেন উইলসন গোমেজ। স্ক্রিপ্ট বিশ্লেষণে আছেন তামিম মুনতাসির, মুনিম রাব্বী ও সাজ্জাদ হোসেইন। থাম্বনেইল ডিজাইন করেন ইয়াসিন আবির ও রৌশানের ছোটভাই তিয়ান। রৌশন প্রজন্মকে বলেন, ‘করোনা মহামারির অলস সময়গুলো কাজে লাগাতে ভয়েস অব ঢাকা’র যাত্রা শুরু। প্রথমে চিন্তা-ভাবনা ছিল ট্রাভেল ব্লগ বানাব, কিন্তু পরে ইনফোগ্রাফি নিয়ে কাজ শুরু করি।’


সহজে ইংরেজি শেখানোর প্রয়াস এশায়ার
কর্পোরেট কাজ থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা, সবখানে ভালো ইংরেজি জানা এখন আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ইংরেজিতে সহজে কথোপকথন কিভাবে করা যায়, কিভাবে নিজের পরিচয় ইংরেজিতে তুলে ধরা যায়, ইংরেজি কমন যে বাক্যগুলো আমরা প্রায়ই ভুল করি, কিংবা নিত্যদিনের কথোপকথনে ব্যবহারিক ১০টি ইংরেজি বাক্য থেকে শুরু করে উচ্চারণের খুঁটিনাটি সহজভাবে শেখানোর জন্য অল্প সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন এশায়া বিনতে হাসান। ইংরেজির নানান খুঁটিনাটি বিষয় থেকে বিচিত্র সব বিষয়ের উপর সহজ ও অভিনব কৌশলের মাধ্যমে শেখান তিনি। বর্তমানে ফেসবুক ও ইউটিউব মিলে এশায়ার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। এশায়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।


বাংলার ‘নাস ডেইলি’ আথুই মারমা
ইংরেজিতে কথা বলার ধরন ও সমসাময়িক বিষয়সহ আশপাশের বিভিন্ন ব্যক্তির ভিন্ন গল্প তুলে ধরার জন্য ইতোমধ্যে জুনিয়র নাস ডেইলি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন রাঙামাটির ছেলে আথুই মারমা। ২০১৮ সালে কনটেন্ট ক্রিয়েশন শুরু করলেও আশানুরূপ ভিউ ও সাবস্ক্রাইবার না পাওয়ায় একপ্রকার মনোবল হারিয়ে বন্ধ করে দেন কনটেন্ট ক্রিয়েশন। পরবর্তী সময়ে ‘নাস ডেইলি’র ভিডিও থেকে অনুপ্রেরণায় করোনার ঘরবন্দী সময়ে আবারও কনটেন্ট ক্রিয়েশন শুরু করেন আথুই। টিউশনি করে কিছু টাকা জোগাড় করে একটি ব্যবহূত ল্যাপটপ কিনে পুরোদমে শুরু করেন কনটেন্ট ক্রিয়েশন। নাস ডেইলির আদলে কনটেন্ট তৈরির জন্য অনেকে তাকে বাংলার ‘নাস ডেইলি’ নামে ডাকেন। আথুই পড়াশোনা করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে।


গ্রামীণ সৌন্দর্য তুলে ধরতে চম্পার ‘ভিলেজ লাইফ’
ইট কাঠের দেয়ালে ঘরবন্দী মানুষ একটুখানি প্রকৃতির দেখা পেলে নিজেকে জড়িয়ে নেন প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে। গ্রামের প্রকৃতির প্রতি শহুরে মানুষের ভালোবাসা কাজে লাগিয়ে কনটেন্ট নির্মাণ করছেন চম্পা নামে মানিকগঞ্জের ২৪ বছর বয়সী এক কিশোরী। ব্লগিংয়ে পুরো গ্রামীণ জীবনকে তুলে ধরেন তার ইউটিউব চ্যানেল ‘ভিলেজ লাইফ উইথ চম্পা’র মাধ্যমে। পরিবার নিয়ে ঢাকার কোলাহল ছেড়ে নিজ গ্রাম মানিকগঞ্জে বাস করছেন চম্পা। ইউটিউব-এ ব্লগিংয়ের মাধ্যমে তুলে ধরনের গ্রামীণ মানুষের জীবনকথা। এর পাশাপাশি গ্রামের বিভিন্ন কৃষ্টি-সংস্কৃতির ভিডিওর পাশাপাশি কচুরিপানা ফুলের বরা, পেপের পায়েশ, তেলাকুচাসহ নানা ধরনের অজানা রেসিপি তুলে ধরেন ভিডিও-তে। বর্তমানে ফেসবুক ও ইউটিউব মিলে প্রায় এক মিলিয়ন অনুসারী তার।


সিনজয় সাহার ‘এভারগ্রীণ ইনফোটেইনমেন্ট’
বিনোদন ও ভিন্নধর্মী টপিকের তথ্য নিয়ে বিনোদনের মাধ্যমে বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন সিনজয় সাহা। মূলত করোনা মহামারির সময়ে অবসর সময়কে কাজে লাগাতে কনটেন্ট ক্রিয়েশন শুরু করেন সিনজয়। শুরুর দিকে শুধু ফুটবল সম্পর্কিত কন্টেন্ট তৈরি করতেন সিনজয়। তার আগে ইউটিউব ঘেঁটে ভিডিও এডিটিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের প্রাথমিক জ্ঞান রপ্ত করেন। তারপর ‘এভারগ্রীণ ইনফোটেইনমেন্ট’ (সাধারণ তথ্যকে বিনোদনের মাধ্যমে তুলে ধরা) কন্টেন্ট নিয়ে কাজ শুরু করেন সিনজয়। সিনজয় প্রজন্মকে বলেন, ‘মানুষকে শেখানো এবং জানানো আমার উদ্দেশ্য।’ তিনি পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগে। ফেসবুকে তার অনুসারী প্রায় ৮০ হাজার।


বিজ্ঞানকে আনন্দময় করে তুলতে ইমতিয়াজের ‘স্টোরিহেড’
তথ্যবহুল যৌক্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্লগিংয়ে বিজ্ঞানের নানা বিষয় সহজভাবে উপস্থাপন করার জন্য বিজ্ঞানপ্রেমিদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠছেন ‘স্টোরিহেড’র ক্রিয়েটর ইমতিয়াজ অর্নব। স্টোরিহেড’র মাধ্যমে ফ্রি স্টাইল এডুকেশানের প্রতি ভালো লাগা থেকেই বিজ্ঞানভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করেন ইমতিয়াজ। ইমতিয়াজ ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রনিক্স সম্পন্ন করেছেন। বিজ্ঞানের নানা বিষয় শিক্ষার্থীদের মাঝে মজাদার ও আনন্দময় করে তুলতে তিনি কনটেন্ট নির্মাণ করেন। প্রফেশনালি কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন করোনা মহামারিকালে। সাত-আট মাস পরিশ্রমে রপ্ত করে ফেলেন ক্যামেরা বেসিক, এডিটিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশনের সাধারণ জ্ঞান ও স্টোরিটেলিংয়ের সাধারণ ধারণা।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন