বুধবার, ১৭ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইরানের পরমাণু ইস্যুতে ফের শুরু হচ্ছে আলোচনা

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২২, ০৬:২৫

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আবার ইরানের পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে বলে খবর দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানয়ানি। তিনি বলেছেন, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধান পরমাণু আলোচক আলী বাকেরির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শিগগিরই ভিয়েনার উদ্দেশ্যে তেহরান ত্যাগ করবে। 

২০২১ সালের মার্চ মাস থেকে ভিয়েনায় পাঁচ জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সংলাপ চালিয়ে আসছিল ইরান। যুক্তরাষ্ট্রকে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতায় ফিরিয়ে আনা ও ইরানের ওপর থেকে নিপীড়নমূলক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউর মধ্যস্থতায় ঐ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেন সরাসরি অংশ নেয় ও যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে এতে যোগ দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে একতরফাভাবে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল বলে ভিয়েনা সংলাপে দেশটির সরাসরি অংশগ্রহণে আপত্তি জানায় ইরান। ইরানের পক্ষ থেকে ছাড় দেওয়ার কারণে এই আলোচনায় ব্যাপক অগ্রগতি হয়। 

কিন্তু মার্কিন প্রশাসন প্রয়োজনীয় ছাড় দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভিয়েনা সংলাপ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। গত পাঁচ মাস ধরে ঐ সংলাপ আবার চালু করার জন্য কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রচেষ্টা চলে; বিশেষ করে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা জোসেপ বোরেল এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা আলোচনাকে একটি সফল পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালান।

এবারে ইরানের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে উভয় দেশের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে এই সপ্তাহেই ভিয়েনায় মিলিত হবেন উভয় দেশের কর্মকর্তারা। দুই দেশের কর্মকর্তারাই অবশ্য বলছেন, আলোচনায় এখনই ব্যাপক অগ্রগতি হবে, এমনটা তারা আশা করছেন না।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বুধবার রাতে তেহরানে বলেন, তার দেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আলোচনায় যোগ দিতে আলী বাকেরির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ভিয়েনা যাচ্ছে। তিনি বলেন, আগের আলোচনার ধারাবাহিকতায় এবারও ইইউর মধ্যস্থতায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আলোচনায় ইরানসহ সব দেশের পক্ষ থেকে নতুন করে উত্থাপিত প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করা হবে। কানয়ানি একটি টেকসই চুক্তি করার ব্যাপারে তার দেশের দৃঢ়সংকল্পের কথা জানান ও আশা প্রকাশ করেন যে, এমন একটি চুক্তি সই করা সম্ভব হবে যার ফলে ইরানি জনগণের স্বার্থ রক্ষিত হয়।

ইত্তেফাক/এএইচপি