শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘সব ধরনের দর্শক-শ্রোতার জন্যই কাজ করছি’

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২২, ০৭:৩৮

সংগীতে একেবারে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য জনরা’ই বেছে নিয়েছেন পপতারকা জেফার রহমান। স্টেজে নিজের গেটআপ যেমন ভিন্ন, গানের রুচি, উপস্হাপনার আদলও তার আলাদা পথে হাঁটা পথিকের মতো। সর্বশেষ ন’ ডরাই চলচ্চিত্রে গান করেছিলেন। এরপর নিয়মিত কাজ করছেন। নিজের মিউজিক ক্যারিয়ার ও সংগীত ভাবনা নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে।

বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই

— সম্প্রতি আমার ‘নেই প্রয়োজন’ ও ‘অজানা’ গান দুটি মুক্তি পেয়েছে। পাশাপাশি নতুন গান লেখা লিখছি এবং সুর করছি। যেগুলো মিউজিক ভিডিও আকারে একে একে প্রকাশিত হবে। এর বাইরেও বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে নতুন গানের কাজ করছি।

গাওয়ার পাশাপাশি গান লিখছেন এবং সুর করছেন। আপনার সুরে অন্য শিল্পীদের আগ্রহ কেমন দেখছেন?

আমার বেশিরভাগ কাজই নিজের সুরে করা হয়েছে। যদিও সবাই মনে করে আমি শুধু গানে কণ্ঠ দিই। তবে আমি আগে একা একা গান করলেও বর্তমানে অন্য শিল্পীদের সঙ্গে বেশি কাজ করা হচ্ছে। তাদের আগ্রহ রয়েছে বলেই কিন্তু কাজগুলো করতে পারছি।

দেশে নারী কম্পোজার নেই বললেই চলে! সেই জায়গায় আপনি নিয়মিত কাজ করছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সুবিধা-অসুবিধার মুখোমুখী হচ্ছেন?

দেখুন, আমি তো শুরু থেকেই একা একা ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি। প্রডিউসার ছাড়া কাজ করা হবে না, এই বিষয়টি আমার ছিল না। এছাড়া এই ডিজিটাল যুগে কারও মেধা থাকলে যেকোনোভাবে সেটা প্রকাশ করতে পারে। বলতে পারেন, উন্মুক্ত মাধ্যমে চাইলেই নিজেকে প্রকাশ করা সম্ভব। সেই জায়গা থেকে আমার তেমন নেতিবাচক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়নি।

ন’ ডরাই সিনেমায় আপনার গাওয়া একটি গান বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। কিন্তু এরপর আপনাকে প্লেব্যাকে দেখা যায়নি। আসলে আপনার ঘরানার সঙ্গে প্লেব্যাকের সংগতি নেই, নাকি ভিন্ন কোনো কারণে রয়েছে?

এই সিনেমাটিতে আমি গান গাওয়া ছাড়াও এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার হিসেবে কাজ করেছি। কিন্তু তারপর আর প্লেব্যাক সেভাবে করা হয়নি, কারণ প্রথমদিকে আসলে আমি প্লেব্যাকের জন্য কনফিডেন্ড ছিলাম না। বাংলা গান সেভাবে করতে পারব কি-না, এ নিয়ে দ্বিধা ছিল। তবে এখন আমি বাংলা, ইংরেজি দুটোই ভালোভাবে করতে পারছি।

তাহলে কী এখন থেকে প্লেব্যাকে নিয়মিত দেখা যাবে?

অবশ্যই প্লেব্যাকে নিয়মিত হওয়ার ইচ্ছে আছে। এখন আমার যে গানগুলো প্রকাশিত হচ্ছে সেগুলোর বেশিরভাগই কিন্তু বাংলা। সেই জায়গায় কিন্তু প্লেব্যাক করার যথেষ্ট সুযোগ আমার রয়েছে।

অনেকেই বলেন, আপনাদের জনরার গানগুলো সর্বসাধারণের জন্য না। বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ হয় কি-না?

দেখুন, এটা সত্য যে, আমার প্রথমদিকের গানগুলো সর্বসাধারণের জন্য ছিল না। তবে এখন কিন্তু আমি সব ধরনের দর্শক-শ্রোতার জন্যই কাজ করছি। সেটা আমার শেষ প্রকাশিত গানগুলো দেখলেই বুঝতে পারবেন।

বাংলাদেশে এখন মানহীন গানও ভাইরাল হচ্ছে। বিষয়টি আপনাদের লজ্জার কারণ নয় কী?

আমাদের একটা বাজে অভ্যেস তৈরি হয়েছে যে, কোনো মজার কিছু পেলে হাসি-ঠাট্টার ছলে সেটাকে ভাইরাল করে দিচ্ছি। এতে বাইরের দেশেরও আমাদের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তারা মনে করছে ওরাই আমাদের শিল্পী, হিরো। ফলে ভালো শিল্পীরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। তাই আমি বলবো, মজা করে মানহীন কাজ ভাইরাল না করে ভালো কাজগুলো প্রমোট করলে সবার জন্যই ইতিবাচক হবে।

সম্প্রতি রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া নিয়ে বির্তক তৈরি হয়েছে । একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে বিষয়টিকে স্বাধীনতার হস্তক্ষেপ মনে করেন কি-না?

আমার মনে হয়, কে কী করবে সেটা আমরা নির্ধারণ করে দিতে পারি না, এটা আমাদের হাতে না। কিন্তু আমরা কোনটা দেখছি বা প্রমোট করছি সেটা আমাদের হাতে।

বর্তমানে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি বলে কিছু নেই। যে সকল লেভেল কোম্পানি রয়েছে তারা নাটক কিনছে এবং খণ্ড খণ্ড করে প্রকাশ করছে। উত্সব ছাড়া তেমন গান প্রকাশ করছে না। এই চর্চা শিল্পীদের জন্য কতটা ইতিবাচক?

যদিও আমি কোনো লেভেল কোম্পানির হাত ধরে যাত্রা শুরু করিনি, তবে কেউ যদি কাউকে ব্যাকআপ দেয় সেটা অবশ্যই খুবই ভালো। একটা সময় লেভেল প্রয়োজন ছিল। তারা গানটি কোথায় কীভাবে যাবে সেটা ঠিক করে দিতো। কিন্তু এখন সেই কাজটি একজন শিল্পীরা নিজেরাই করতে পারছে। তাই আমার মনে হয়, যারা লেভেল ধরে কাজ করেছেন তাদের জন্য বিষয়টি কষ্টের। কিন্তু যারা আমার মতো স্বাধীনভাবে কাজ করছেন তাদের জন্য লেভেল কোম্পানি খুব গুরুত্বপূর্ণ না।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি