বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রেললাইন ব্যবহার ও রেলক্রসিং পারাপার

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২২, ০৬:৩৯

সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঘটে যাওয়া ট্রেন দুর্ঘটনাটি বাংলাদেশের মানুষের মনে নাড়া দিয়েছে। সড়কে মৃতু্যর মিছিল কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না। আবার মাঝে মাঝেই ঘটে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। সোশাল মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়াতে মিরসরাইয়ের ট্রেন দুর্ঘটনাটির চিত্র দেখে বোঝা গেল রেলক্রসিংয়ের লাইনম্যান এবং মাইক্রোবাসের ড্রাইভারের উদাসীনতা এবং অসতর্কতাই এর জন্য দায়ী।

ট্রেন আসার সময় রেলক্রসিংয়ে লাইনম্যান ছিল না আর ড্রাইভার মাইক্রোবাস নিয়ে রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় দেখেশুনে রেল লাইন পার হয় নাই। এই দুর্ঘটনাটির জন্য তারা দায় এড়াতে পারে না। এভাবে দুর্ঘটনা কত ঘটবে? অনেক মানুষই রেল লাইন ধরে হাঁটে। কিন্ত হাঁটার সময় সতর্ক থাকে না। ফলে ঘটে দুর্ঘটনা। এখন সব মানুষের কাছেই মোবাইল ফোন রয়েছে। কানে থাকে ইয়ারফোন। রেল লাইন দিয়ে চলার সময় কানে ইয়ারফোন ব্যবহারের কারণে ট্রেন আসার শব্দ শুনতে পায় না, ফলে দুর্ঘটনায় জীবন পর্যন্ত চলে যায়। 

রেল লাইন ধরে হাঁটতে গিয়ে অনেক সময় অসতর্কতায় রেল লাইনের সংযোগ ফাঁকায় পা আটকেও মানুষ মরে। রেলক্রসিং পারাপারের সময় সাধারণ মানুষ ও যানবাহনসহ সবাইকে তাড়াহুড়ো করতে দেখা যায়। ট্রেন আসছে ট্রেন আসছে বলে দ্রুত রেল লাইন পার হতে হবে—এই রকম একটি প্রতিযোগিতা শুরু হয়। যেন কারোরই কোনো হুঁশ থাকে না। কিন্তু আমরা ট্রেনের একটি বিষয় সম্পর্কে কেউ জানি না আর তা হলো ট্রেনের চুম্বক তরঙ্গ শক্তি। ট্রেন যখন চলতে থাকে তখন ট্রেন লাইনে এক ধরনের তরঙ্গ চুম্বক শক্তির সৃষ্টি হয়। এই চুম্বক শক্তি মানুষ প্রাণী এবং অন্যান্য বস্ত্তকে আকর্ষণ করে থাকে। এ কারণে ট্রেন চলার সময় ট্রেনের কাছাকাছি রেল লাইনে কোনো মানুষ বা প্রাণি উঠে গেলে তারা বোধশক্তি হারিয়ে ফেলে এবং স্হির হয়ে যায়, ট্রেনে কাটা পড়ে। 

ট্রেন আসার সময় যে কোনো ধরনের বাহন রেল লাইনে উঠে গেলে এবং খুব কাছাকছি হলে তরঙ্গ চুম্বক শক্তির কারণে স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঘটে দুর্ঘটনা। মিরসরাইয়ের দুর্ঘটনাটি এই কারণে হওয়া অবান্তর কিছু নয়। আমরা যদি খেয়াল করি তাহলে দেখব—রেলক্রসিংয়ে ট্রেন আসার অন্তত দশ মিনিট আগে লাইনম্যান রেলক্রসিং পারাপার বন্ধ করে দেন। আমাদেরও অপেক্ষা করতে হয় বা অপেক্ষা করা উচিত। কিন্ত আমাদের ধৈর্য নাই। আমাদের অনেক তাড়া। আমরা আগে যেতে চাই। আর এ কারণেই ঘটে ট্রেন দুর্ঘটনা। 

রেল লাইনের ওপর দিয়ে মানুষের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা দরকার। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দূরত্বে দূরত্বে নিষেধাজ্ঞা লেখা সম্বলিত প্লে কার্ড রেল লাইনের পাশে টাঙিয়ে দেওয়া যেতে পারে। রেলক্রসিং পারাপারে ডিজিটাল সাইন ব্যবহার করা এখন সময়ের দাবি। রেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার আরো দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার-প্রচারণা প্রয়োজন। তবেই হয়তো ট্রেন দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন