শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

যৌতুকের মামলা না তোলায় শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২২, ১০:০৫

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে গৃহবধূকে যৌতুকের টাকার জন্য মারধরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা তুলতে অস্বীকার করায় এবার শাশুড়িকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে।  চিকিৎসাধীন অবস্থায়  শাশুড়ি রাশেনুর বেগম মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বুধবার (৩ আগস্ট) দায়েরকৃত এ অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। রাশেনুর বেগম আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের মদনপুরের আবুল কালামের স্ত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এ বছরের ৫ এপ্রিল রাশেনুর বেগমের মেয়ে রিপা আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের আমির হোসেনের ছেলের আশিকুর জামানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে যৌতুক বাবদ চার লাখ টাকা দাবি করতে থাকে। যৌতুক দিতে না পারায় প্রায় সময়ই স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন গৃহবধূ রিপাকে নির্যাতন করতে থাকে। এ অবস্থায় গত  ৩ জুলাই রাতে টাকার জন্য অমানবিক নির্যাতন ও মারপিট করে। তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ভর্তি হয়ে পরে আদিতমারী থানায় রিপা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আদিতমারী থানা হতে লালমনিরহাটের উইমেন সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, এ বিষয়ে উইমেন সাপোর্ট সেন্টার থেকে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতিকুল হকের কার্যালয়ে উভয়কে উপস্থিত থাকতে নোটিশ দেওয়া হলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন আরও ক্ষ্রিপ্ত হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন কৌশলে জারিকৃত নোটিশের দিন পিছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে মামলা তুলে নিতে মেয়ে ও তার পরিবারকে হুমকি ধমকি দিতে থাকেন।

এমতাবস্থায় গত বুধবার সন্ধায় রাশেনুর ও তার মেয়ে রিপা আক্তারকে একা পেয়ে মেয়ের শ্বশুর আমির হোসেন ও তার স্ত্রী আইরিন বেগমসহ কয়েকজন মিলে পথরোধ করে মারপিট করে। এ সময় তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করান। 

পরে তিনি এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

আদিতমারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাশেনুর বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে মারপিট করা হয়। সে চিকিৎসা নিয়ে থানায় মামলা করেছে। সেই মামলা তুলে না নেওয়ায় আমাকেও মারধর করা হয়েছে। এখন এই অভিযোগ তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।’ বর্তমানে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।


এ বিষয়ে ছেলের বাবা আমিনুর হোসেন সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হননি। এসময় তিনি সাংবাদিকদের দেখে উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আপনাদের যা লেখার লিখেন।’

এ বিষয়ে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকতারুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

ইত্তেফাক/এসজেড