বৃহস্পতিবার, ১৮ আগস্ট ২০২২, ২ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

২৭ বছর প্রকৃতির সঙ্গে বসবাস সেকেন্দার বাদশার

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ০০:৪৮

জীবনের ২৭টি বছর ধরে বসবাস করে আসছেন প্রকৃতির সঙ্গে। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত প্রকৃতির সঙ্গে বসবাস করতে চান দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সফল নার্সারি ব্যবসায়ী সেকেন্দার বাদশা। তিনি এখন উপজেলার সবচেয়ে বড় নার্সারির মালিক। মাত্র ৫ শতক জমি দিয়ে ১৯৯৫ সালে শুরু করেন নার্সারি, এখন প্রায় ১০ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের নার্সারি। এনেছেন সংসারজীবনে সচ্ছলতা। এখন প্রতিদিন পাঁচ-ছয় জন শ্রমিক তার নার্সারিতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সেকেন্দার বাদশা বলেন, ছোট থেকে তার প্রকৃতির প্রতি একটা টান ছিল। ইচ্ছা ছিল প্রকৃতির পাশাপাশি থাকা যাবে এমন পেশার সঙ্গে যুক্ত হবেন। কিন্তু জীবিকার তাগিদে তা হয়ে ওঠেনি। সংসারজীবনে অন্য পেশায় যুক্ত হন। একসময় বিভিন্ন সমস্যার কারণে তার পেশা ছাড়তে হয় এবং বেকার হয়ে পড়েন। বেকার জীবনে আর্থিক সংকটে পরিবার নিয়ে কষ্টে কাটছিল তার জীবন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন, প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা যাবে এমন পেশায় যুক্ত হবেন। সেই লক্ষ্যে নিজের কোনো জমাজমি না থাকায় বাড়ির পাশে মাত্র ৫ শতক জমি লিজ নিয়ে গড়ে তোলেন ছোট একটি নার্সারি। বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদন ও বিক্রি শুরু করেন। চারার গুণমান ভালো হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে তার নার্সারির চারার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে আস্তে আস্তে তার নার্সারির পরিধিও বাড়তে থাকে। নার্সারির চারা বিক্রির আয়ে এক ছেলে ও এক মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন। উপজেলা পর্যায়ে চারা উৎপাদনে তিনি সেরা নার্সারি হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন একাধিকবার। বর্তমানে তার নার্সারিতে দেশি-বিদেশি ৪০ প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রয়েছে। চলতি মৌসুমে বিক্রির জন্য তার নার্সারিতে প্রায় ৩০ হাজার চারা প্রস্তুত রয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়ে গড়ে তিনি প্রতি মাসে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় করছেন। তার উৎপাদিত চারা উপজেলার বিভিন্ন স্থানসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হয়। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এলাকার অনেক শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তিনি বিনা মূল্যে চারা প্রদান করেছেন। শুধু ব্যবসার জন্য নয়, প্রকৃতির প্রতি তার ভালোবাসা থেকে তিনি জীবনের ২৭টি বছর এই পেশায় আছেন।

জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক মো. আনিছুর রহমান বলেন, সেকেন্দার বাদশার নার্সারিতে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন গাছের চারা নিতে আসেন। অনেকেই তার নার্সারি দেখতে আসেন এবং নার্সারি ব্যবসার জন্য তার কাছে পরামর্শ নেন। তার নার্সারির অনেক কর্মচারী এখন নিজেরাই নার্সারি গড়ে তুলে সফল হয়েছেন। নার্সারি পেশায় তিনি এলাকার দৃষ্টান্ত।

সামাজিক বন বিভাগের নবাবগঞ্জ বিট কর্মকর্তা খাইরুল আলম বলেন, সেকেন্দার বাদশা তার নার্সারিতে বনজ ও ঔষধি গাছের চারা উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সেকেন্দার বাদশা চারা উৎপাদন করে লাভবান হয়েছেন। তার নার্সারির পুষ্টিকর দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফলের চারা উৎপাদন হচ্ছে এবং চারার গুণমান খুবই ভালো। তিনি উপজেলায় গাছের চারার চাহিদা পূরণ করছেন। মানসম্পন্ন চারা উৎপাদনে কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন