রোববার, ১৪ আগস্ট ২০২২, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

রাজশাহীতে বাড়ছে চুরি ছিনতাই, মামলা নিতে চায় না থানা

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ০১:২৪

রাজশাহীতে এখন প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরির ঘটনা ঘটছে। কিছু ঘটনায় চোর ধরাও পড়ছে, মালামালও উদ্ধার হচ্ছে। কিন্তু বেশির ভাগ চুরির ক্ষেত্রেই চোরের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চুরির ঘটনার পর কোনো কোনো থানা চুরির মামলা নিতে রাজি হয় না। ভুক্তভোগীকে ‘জিনিসপত্র হারানোর’ জিডি করতে বলা হয়। অতি সম্প্রতি এক চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী নগরীর চন্দ্রিমা থানায় গেলে সেখানেও একই পরিস্থিতির শিকার হন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি।

জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই রাতে নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার ৭ নম্বর রোডে একটি বাড়ির দুটি ফ্ল্যাটে ঢুকে জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। দুই ফ্ল্যাটের মধ্যে একটির ভাড়াটিয়া রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থী। ঘটনার পর রুয়েট শিক্ষার্থী মামলা করতে গিয়েছিলেন চন্দ্রিমা থানায়। কিন্তু থানার ওসি তার মামলা নিতে রাজি হননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়া হয়েছে। আর এই চুরির ঘটনাকে জিডিতে বর্ণনা করা হয়েছে ‘মালামাল হারানো’ বলে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী রুয়েট শিক্ষার্থী বলেন, ‘চুরির ঘটনায় মামলা করতে চেয়েছিলাম। পুলিশকে বিষয়টি একাধিকবার বলেছি। কিন্তু পুলিশ মামলা নিতে চায়নি। পুলিশ বলেছে, চোর তো অচেনা। মামলা করলে আসামির নাম দিতে হবে। না হলে মামলা হবে না। ’ ঐ শিক্ষার্থী বলেন, ‘পুলিশ আমাকে দিয়ে যে জিডি করিয়েছে তাতে লিখতে হয়েছে যে রাস্তা থেকে ফোন, মানিব্যাগ ও ল্যাপটপ হারিয়েছে।’

গত এক সপ্তাহের মধ্যে থানা এলাকায় কোনো চুরির ঘটনা ঘটেছে কি না, জানতে চাইলে চন্দ্রিমা থানার ওসি এমরান হোসেন বলেন, ‘না, কোনো চুরি হয়নি। আল্লাহর রহমতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো। চুরির ঘটনা ঘটলে তো মামলা হতো। কিন্তু থানায় কোনো চুরির মামলা হয়নি।’

রুয়েট শিক্ষার্থীর বাসায় চুরির ঘটনায় মামলা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা মনে পড়ছে না।’ মামলা না নিয়ে জিডি করানোর বিষয়ে ওসি বলেন, ‘জিডি তো করতেই পারে। রাস্তাঘাটে কোনো কিছু হারিয়ে গেলে জিডি করবে না?’

চুরির ঘটনায় জিডি করানোর বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সভাপতি আহমেদ সফিউদ্দিন বলেন, ‘পুলিশ ভাবতে পারে চুরির মামলা হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ বোঝাবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে হবে। তাই চুরির মামলা না নিয়ে হারানোর জিডি করানো হতে পারে। চুরির মামলা হলে তা উদ্ধার করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সেই দায়িত্বটা এড়িয়ে যেতেই চুরির মামলা অনেক সময় নেওয়া হয় না। মামলা না নেওয়া মানে চোরকে উত্সাহিত করা।’

রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুসাব্বিরুল ইসলাম বলেন, ‘চুরির ঘটনা ঘটলে চুরিরই মামলা হতে হবে। জিডি হবে কেন? পুলিশ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। আসামির নাম ছাড়াও মামলা হয়। যার বাসায় চুরি সে সবক্ষেত্রেই চোর চিনবে ব্যাপারটা এমন নয়। চোর খুঁজে আনার দায়িত্ব পুলিশের।’

চন্দ্রিমা থানার ওসির বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মো. রফিকুল আলম বলেন, ‘চুরির ঘটনায় চুরিরই মামলা করা হয়। হারানোর জিডি করার সুযোগ নেই। কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বালুর ট্রাক থেকে সোয়া কোটি টাকার মাদকসহ আটক ৩

জায়গার অভাবের অজুহাতে রাজশাহীতে স্থান পেল না কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি!

রাজশাহীর বিদ্যুতের ১০ শতাংশই খরচ ব্যাটারিচালিত যানে

উচ্চস্বরে গান বাজাতে নিষেধ করায় খুন, গ্রেফতার ৫

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

গোদাগাড়ীতে হারিয়ে যাচ্ছে ধানের গোলা

রাজশাহী মহানগরীর পাঁচটি ফ্লাইওভারের নকশা চূড়ান্ত

বাগমারায় পটোলের দাম কম হওয়ায় বিপাকে কৃষক

রাজশাহীতে নারী শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার