শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ট্যাটু করে এইচআইভি পজিটিভ ২ জন!

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ১৭:৪৩

শখের বশে বা ফ্যাশনের জন্য মানুষ নিজের শরীরে ট্যাটু এঁকে থাকে। এটি বহুদিন ধরে বিভিন্ন দেশে প্রচলিত হয়ে আসছে। কিন্ত এই শখের কারণে যদি মরণব্যাধি রোগে আক্রান্ত হন তাহলে কপালে ভাঁজ পড়ার মতোই অবস্থা। এমনই ঘটনা ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের বারাণসী শহরে। 

দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই মাসে ভারতের বারাণসী জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা দুইজন রোগীকে দেখেছেন। যারা তাদের শরীরে ট্যাটু করার পরে এইচআইভি পজিটিভ হয়েছেন। 

বারাণসী জেলা হাসপাতালের চিফ মেডিকেল অফিসার নিশ্চিত করেছেন যে, জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই রোগী দাবি করেছেন তাদের কেউই কাউকে রক্ত নেননি বা দেননি বা কোনও অনিরাপদ যৌন মিলনে লিপ্ত হননি। কিন্তু ট্যাটু করার পর তারা এইচআইভি পজিটিভ হয়েছেন। 

দীনদয়াল উপাধ্যায় হাসপাতালের এন্টিরেট্রোভাইরাল ট্রিটমেন্ট (এআরটি) সেন্টারের সিনিয়র চিকিতসক প্রীতি আগরওয়াল বলেন, ট্যাটু করার সময় সংক্রমিত সূঁচ ব্যবহার করা এই সমস্যার মূল কারণ।  

বড়গাঁও এলাকার বাসিন্দা জয়ন্ত (২০) (ছদ্মনাম) গ্রামে অনুষ্ঠিত মেলায় নিজের হাতে ট্যাটু করিয়েছিলেন। কয়েক মাস পর তার স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকে। তার প্রচণ্ড জ্বর হয় ও দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেক চিকিৎসার পরও তিনি সুস্থ হননি তাই চিকিৎসকরা এইচআইভি পরীক্ষা করান। ফলাফলে তার এইচআইভি পজিটিভ আসে। 

আরেক নাগওয়ান এলাকার যুবতী শেফালি (ছদ্মনাম) এর সঙ্গেও তেমনই কিছু ঘটেছে। তিনি একটি ফেরিওয়ালা দ্বারা ট্যাটু করিয়েছিলেন। কিছুদিন পর অবস্থার অবনতি হতে থাকে। প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার পর দেখা গেল যে তিনি এইচআইভি পজিটিভ।  

চিকিৎসক আগরওয়াল বলেন, যে সুই দিয়ে ট্যাটু তৈরি করা হয় তা খুবই ব্যয়বহুল। সাধারণত, একটি ট্যাটু করার পরে সুই ধ্বংস করা উচিত। কিন্তু আরও বেশি উপার্জনের জন্য ট্যাটু-নির্মাতারা একই সুই ব্যবহার করে মানুষের গায়ে ট্যাটু আঁকতে থাকে।

তবে ট্যাটু করা লোকেরা এই বিপদ সম্পর্কে অবগত নয়। ট্যাটু প্রস্তুতকারক মেশিনে নতুন সুই বসিয়েছে কিনা তাও তারা খেয়াল করে দেখেন না। এমন পরিস্থিতিতে যদি কোনও এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি সেই সুই দিয়ে ট্যাটু করান তবে একই সুই ব্যবহার করে অন্যদের এইচআইভি সংক্রমণ হওয়ার সমস্ত ঝুঁকি থাকে। 

 

ইত্তেফাক/এসআর