রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফের সন্ত্রাসীদের গুলি, ২ মাঝি নিহত

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২২, ০৯:৫৮

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আবারও সন্ত্রাসীদের গুলিতে দুই মাঝি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে ক্যাম্প-১৫ এর সি ৯ ব্লকের দুর্গম পাহাড়ের ঢালে এ ঘটনা ঘটে। ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. কামরান হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহতারা হলেন, ক্যাম্প ১৫ ব্লক সি/১ এর আব্দুর রহিমের ছেলে হেড মাঝি আবু তালেব (৪০) ও একই ক্যাম্পের সি/৯ এর ইমাম হোসেনের ছেলে সাব ব্লক মাঝি সৈয়দ হোসেন (৩৫)।

বুধবার (১০ আগস্ট) সকালে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. কামরান হোসেন জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে, ৮-১০ জন দুষ্কৃতিকারী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৫ এর সি ৯ ব্লক থেকে অনুমান ১৫০ ফিট উপরে দুর্গম পাহাড়ের ঢালে জনৈক আসিয়া বেগমের সেড (নম্বর ১০১০) এর সামনে সৈয়দ হোসেন ও আবু তালেবকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে জামতলী এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈয়দ হোসেনকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেখানেই মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুতর আহত অপরজন আবু তালেবকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুতুপালং হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক। পরবর্তীতে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ করেন পুলিশ কর্মকর্তা কামরান।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, পুলিশ লাশগুলো উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে, হত্যাকারি দুষ্কৃতিকারীদের গ্রেফতার করতে ক্যাম্পে ব্লকরেইড দিয়ে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন।

ইতোপূর্বেও দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে বিভিন্ন ক্যাম্পের কয়েক মাঝি নিহত হয়েছেন। আহত হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন আরও কয়েকজন। ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটির মাঝিদের নেতৃত্বে ব্লকে ব্লকে ক্যাম্প পাহারাদল স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছে। এতে মাদক, অস্ত্র ও অপহরণ বাণিজ্যে জড়িত রোহিঙ্গা অপরাধীরা অপকর্ম করতে বেকায়দায় পড়ছেন। এসব কারণে ভীতি সঞ্চার করতে অপরাধী চক্র মাঝিদের হত্যা করে। সোমবার রাতেও একই কায়দায় বালুখালী ক্যাম্পে এক হেড মাঝিকে গুলি করেছিল অজ্ঞাত অপরাধীরা। কিন্তু গুলি লাগে এক স্বেচ্ছাসেবীর গায়ে। তিনি আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

ইত্তেফাক/কেকে