৪৫ হাজার গ্রাহকের
ভোগান্তি
বামনা (বরগুনা) সংবাদদাতা
বরগুনার বামনা উপজেলা বিদ্যুত্ বিতরণ কেন্দ্রের আওতায় ৪৫ হাজার বিদ্যুত্ গ্রাহক থাকলেও অদ্যবধি এ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস গড়ে ওঠেনি। ফলে এ উপজেলায় ৪৫ হাজার গ্রাহকের জন্য বিদ্যুত্ বিতরণ সেবা কার্যক্রমে নানা সংকট বিরাজ করছে। একদিকে জনবল সংকট অন্যদিকে বিদ্যুত্ সেবা নিতে পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া উপজেলার জোনাল অফিসে ধরনা দিতে বামনার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকেন।
জানা গেছে, বামনা উপজেলার চারটি ইউনিয়নে ৪৫ হাজার গ্রাহক ও পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়ার আটটি গ্রাম দাউদখালী, দেবত্র, টিকিকাটা, খায়েরঘটিচোরা, গিলাবাদ, দধিভাঙ্গা, বড় আরজী ও ছোট আরজীর আরো ১০ হাজার বিদ্যুত্ গ্রাহক বামনা উপজেলা বিদ্যুত্ সেবা অভিযোগ কেন্দ্রের আওতায় আছেন।
এ অভিযোগ কেন্দ্রের চারজন কর্মচারী গ্রাহক সেবা দিয়ে থাকে। বামনা উপজেলায় সদ্যনির্মিত ১০ মেঘাওয়াট বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনে একজন টেকনিশিয়ান কর্মরত রয়েছেন। বামনা অভিযোগ কেন্দ্রে গ্রাহক সেবায় কর্মচারীদের জন্য দুইটি মোটরসাইকেল থাকলেও তার একটি বিকল। এ অভিযোগ কেন্দ্রের আওতায় ১২০০ কিলোমিটার এসটি/এলটি লাইন ও ১৭ কিলোমিটার ৩৩ কেভি বিদ্যুত্ লাইন রয়েছে। সামান্য ঝড়বৃষ্টি হলে বামনা উপজেলার বিদ্যুত্ লাইন চালু করতে দুই থেকে তিনদিন সময় লাগে। বামনা বিদ্যুত্ বিতরণ অভিযোগ কেন্দ্রের চারজন কর্মচারী দিয়ে ৪৫ হাজার বিদ্যুত্ গ্রাহক সেবা দেওয়া কোনো মতেই সম্ভব না। এ উপজেলায় জোনাল অফিস না থাকায় এলাকার মানুষ রীতিমতো দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুত্ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আট হাজার গ্রাহকের বিপরীতে সাধারণত অভিযোগ কেন্দ্র জনবল থাকে চারজন, ১২ হাজার গ্রাহকের জন্য এরিয়া অফিস জনবল থাকে সাতজন, ১৮ হাজার গ্রাহকের জন্য সাব জোনাল অফিস জনবল থাকে ১২ জন, ৩০ হাজার গ্রাহকের জন্য জোনাল অফিস জনবল থাকে ১৮ জন। কিন্তু বামনা উপজেলায় ৪৫ হাজার গ্রাহক থাকলেও বিদ্যুত্ বিতরণ সেবা পাচ্ছে শুধুমাত্র অভিযোগ কেন্দ্র দিয়ে। অথচ ৪৫ হাজার গ্রাহকের জন্য এ উপজেলায় ১৮ জন কর্মকর্তাসহ জোনাল অফিস থাকার কথা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির জিএম মফিজুর রহমান বলেন, আমরা এরিয়া অফিসের জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। আশা করছি অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
