বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আনন্দ বেদনা ও সংকটে

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২, ০৫:৩৬

প্রতিটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রই উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে চলে। কবি বলেন, ‘চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়’। শত সহস্র বছরের সীমাহীন বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে, অনেক শোষণ ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আজ স্বাধীন। দেশ চলছে মাথা উঁচু করে। এমনি প্রগতির পথে এলো করোনার ভয়াল থাবা। বেধে গেল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। বৈশ্বিক এ সমস্যা পৃথিবীর অনেক দেশের জন্য হলো প্রতিবন্ধক। প্রতিবন্ধকতার আঘাত কিছু না কিছু পড়ছে আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। এ পরিস্হিতিতে রাষ্ট্র সক্রিয় রয়েছে সমস্যার আশু সমাধানে। সমস্যার বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতেই হবে।

বাংলার সীমাহীন উদার আকাশ আমাকে অহংকারী করে। একদিন মমতাময়ী মায়ের আঁচল ভরা স্নেহ-ভালোবাসায় আমাদের কাটত সুখের জীবন। আমাদের ঐ সুখশান্িত ও পরম তৃপ্তি বিদেশি দসু্যরা সহ্য করতে পারল না। বাংলা হলো তাদের লোভের আস্তানা। নানা বেশে এসে তারা লুটে নিতে লাগল আমাদের ধনসম্পদ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লুটে লুটে আমাদের দেশকে করল তারা দেউলিয়া, আমরা হলাম আপন ভূমে সর্বস্ব হারা। প্রায় দুই শ বছর ব্রিটিশ শাসন শেষ হলে পাকিস্তানিরা চেপে বসল আমাদের ওপর জগদ্দল পাথর হয়ে। এমন অবস্হায় বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দেয় এ দেশের মানুষ। 

তারা মুক্তির জন্য করে মুক্তিযুদ্ধ। আসে বহুল আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। পাকিস্তানিদের জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া বাড়িঘর, ধ্বংস করে ও ভেঙে দেওয়া রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট ও কপর্দকশূন্য অর্থনীতির ওপর দিয়ে চলতে চলতে আমরা একসময় পাই উন্নয়নের ছোঁয়া। কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যসহ সকল সেক্টরে উন্নতি করতে থাকি আমরা। কৃষি উত্পাদন বাড়িয়ে খাদ্যে হয়েছি। স্বয়ংসম্পূর্ণ উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার মিছিলে দৃপ্ত পদভারে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমান সরকারের রয়েছে অনেক ভালো ভালো অর্জন। পদ্মা সেতু নির্মাণ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বিশ্বকে, অর্থনীতির চাকা মোড় নিয়েছে। এমন উন্নয়নের মাঝে আসে যদি ক্ষণিক সমস্যা, আমাদের ভেঙে পড়লে চলবে না। সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। 

বাঙালি জাতির রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও আভিজাত্য। আছে অনেক অনেক গৌরবগাথা। অতীত বাংলার অনেক রাষ্টÌপ্রধান অকাতরে সাহাঘ্য-সহযোগিতা করেছেন বিদেশিদের। এ বাংলার স্বাধীন সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ তত্কালে গরিব অসহায় আরব ও পারস্য দেশের জন্য জাহাজ ভরে খাদ্য পাঠাতেন। আরবদের পানির অভাব দূর করার জন্য বাংলার অর্থে ‘নাহারে জোবাইদা’ সংস্কার করে তৃষ্ণা নিবারণের ব্যবস্হা করেছিলেন। তাদের জন্য বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে দেন। এক মহা বিপদে ত্রিশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা সাহাঘ্য হিসেবে পাঠিয়েছেন আরবদের। স্মরণে নিতে হবে আমরা তাঁদেরই উত্তরসূরি। যে কোনো সমস্যার মোকাবিলা করে আমাদের এগোতেই হবে। 

বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রম করতে জানে। তাদের পরিশ্রমের ফসলে ভরে থাকবে বাংলার ভান্ডার। কোনো গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে এ মুহূর্তে আমাদের সবাইকে সাশ্রয়ী ও মিতব্যয়ী হতে হবে। বিদেশে অর্থ পাচার ও দুর্নীতি করা হলে তার লাগাম টানতে হবে। নিজেদের উত্পাদন বাড়াতে কৃষিতে বৃহত্তর বিপ্লব আনতে হবে। গ্যাস-তেলের মতো প্রাাকৃতিক সম্পদের যথাযথ অনুসন্ধানও প্রয়োজন। যে কোনো সংকটে ধৈর্য্য ও দেশপ্রেমের বিকল্প নেই। নিজের দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দেশাত্মবোধের জাগরণ ঘটাতে হবে। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের সুখে দুঃখে অবশ্যই পাশে থাকার অঙ্গীকারে আবদ্ধ হব আমরা সবাই। এ দেশ বাংলাদেশ আমাদের। এখানেই আমাদের থাকতে হবে। 

নরসিংদী 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন