বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিপুলা পৃথিবী

পৃথিবীর সবচাইতে বড় গাছ 

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২, ০৬:২৪

পৃথিবীর সবচাইতে বড় গাছ কত বড় হতে পারে? এমন একটি প্রশ্ন যদি কাউকে জিজ্ঞেস করা যায়, নিশ্চিতভাবেই তিনি কখনই ভাবতে পারবেন না যে, গাছটি ম্যানহাটন শহরের চেয়েও তিনগুণ বড় হতে পারে! এবং সেটার বয়স কিনা সাড়ে চার হাজার বছর!

অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহর থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরের শার্ক বে এলাকায় হঠাৎ করেই এই উদ্ভিদের সন্ধান পান গবেষকরা। উদ্ভিদটির জেনেটিক পরীক্ষা ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে যান। তারা বুঝতে পারেন—অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলে পানির নিচে যে বিশাল তৃণভূমি রয়েছে সেটি একটি একক উদ্ভিদ। বিশাল ওই উদ্ভিদ অন্তত সাড়ে চার হাজার বছর ধরে একটি একক বীজ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশাল ওই উদ্ভিদ আসলে সি-গ্রাস বার সামুদ্রিক ঘাস, যা প্রায় দুইশ বর্গ কিলোমিটার বা ৭৭ বর্গ মাইল জুড়ে অবস্হিত বলে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন। 

রিবন উইড বা ফিতা ঘাস বলে পরিচিত ওই উদ্ভিদের জিনগত বৈশিষ্ট্য জানার চেষ্টা করছিলেন গবেষকরা। এ জন্য তারা উপসাগরের বিভিন্ন স্হান থেকে অঙ্কুর সংগ্রহ করে প্রতিটি নমুনা থেকে একটি করে ‘ফিঙ্গার প্রিন্ট’ তৈরি করতে ১৮ হাজার জেনেটিক মার্কার পরীক্ষা করেন তারা। এর মাধ্যমে এই তৃণভূমিতে কতগুলো উদ্ভিদ আছে তা বের করার চেষ্টা করছিলেন গবেষকরা। তবে গবেষণার তথ্য তাদের চমকে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষণার প্রধান লেখক জেন এজেলো। সেখানে মাত্র একটি উদ্ভিত ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। 

তিনি জানান যে, মাত্র একটি উদ্ভিদ হাঙ্গর উপসাগরে ১৮০ কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত হয়ে এটিকে পৃথিবীর বৃহত্তম পরিচিত উদ্ভিদে পরিণত করেছে। এই সি গ্রাসের দৃঢ়তাও উল্লেখযোগ্য। নানা রকমের পরিবেশ পরিস্হিতির মধ্যেই এই সি গ্রাসটি বেড়ে উঠতে পারে। 

আরো চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই উদ্ভিদটি বছরে ৩৫ সেন্টিমিটার করে বাড়ে। এবং এই হিসেব থেকে গবেষকরা বের করেছেন যে, বর্তমান অবস্হায় আসতে এই গুল্মের ৪,৫০০ বছর লেগেছে!

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন