রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তাইওয়ানকে ঘিরে বৃহৎ শক্তির প্রতিযোগিতা কি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে?

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২, ০৫:১২

মার্কিন হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর নিয়ে শি জিনপিং তার অবমাননাকে ঢাকতে চেষ্টা করছেন। এই সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অস্বস্তিকর পরিস্হিতি আড়াল করতে চাইছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পেলোসির সফর ছিল শির জন্য বেশ বিব্রতকর। যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরও পেলোসির উদ্দেশ্যমূলক সফর ঠেকানো যায়নি। এই সফরের পূর্বে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ‘অসময়ে অযৌক্তিক কথাবার্তা’ শির জন্য স্বভাবতই বেশ অপমানজনক। একে অপমান হিসেবে দেখছেন শি নিজেও।

এই সফরের পর চীনকে ‘থ্রি ওয়ারফেয়ার কনসেপ্ট’ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। আক্রমণাত্মক ভঙ্গি, নজিরবিহীন সামরিক মহড়া, আকাশসীমা লঙ্ঘনসহ ফায়ার পাওয়ার প্রদর্শনী চলেছে চীনের তরফ থেকে। বেশ কিছু প্রতীকী অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপসহ তাইওয়ানের চারপাশ ঘিরে টান টান উত্তেজনা তৈরি করে চীন। চীনের এই আগ্রাসি তত্পরতা জনমিতিক দ্বন্দ্ব, মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি যুদ্ধকে উসকে দিয়েছে।

চীন একে ‘আমেরিকা বিরোধী’ থিম হিসেবে দেখাতে চাচ্ছে। যাতে করে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষে একটি জাতীয় অনুভূতি, ঐকমত্য গড়ে তোলা যায়। বস্ত্তত চীন একে একটি সুযোগে পরিণত করার চেষ্টা করছে, যাতে চীনা বীরত্বের সংস্কৃতি তুলে ধরার মাধ্যমে শির অবস্হানকে আরো পাকাপোক্ত করা যায়। এবং এর মাধ্যমে ২০তম জাতীয় কংগ্রেসে শির তৃতীয় মেয়াদকে সুসংহত করা সহজতর হয়। এই বছরের শেষের দিকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) সম্মেলন হওয়ার কথা।

একই রকম চাপের মধ্যে রয়েছে মার্কিন পক্ষও। পেলোসির তাইওয়ান সফরের ঘোষণার পর ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং জো বাইডেনের মধ্যে টেলিফোন আলোচনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি কঠিন পরিস্হিতিতে পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শির হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পরও পেলোসির সফর বাতিল করতে পারেনি। এর কারণ হলো, সফর বাতিল করা হলে এটি প্রমাণিত হবে যে—বাইডেন চীনা চাপের মধ্যে পড়ে ভয় পেয়েছেন। আর এটি প্রমাণিত ও প্রচারিত হলে তা বাইডেন প্রশাসনের জন্য বিব্রতকর হবে স্বাভাবিকভাবেই।

ইতিমধ্যে আফগানিস্তানে মার্কিন বিপর্যয় বিশ্ববাসীর নজরে এসেছে। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতা উত্তোরণে লড়াই চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন একটি মুহূর্তে চীনের হুঁশিয়ারিতে পিছু হঠা বাইডেনের কাছে যুক্তিযুক্ত ছিল না কোনোভাবেই। যদিও পেলোসির সফর একটি ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল; তবে এটি এখনো স্পষ্ট নয় যে, চীনের হুমকি-মহড়ার মুখে তাইওয়ান প্রশ্নে কৌশলগত অস্পষ্টতার পরিবর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতার নীতি অনুসরণ করবে কি না।

পেলোসির তাইওয়ান সফরের প্রতিক্রিয়ায় নজিরবিহীন সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। তাইওয়ানের উপকূল রেখার কাছাকাছি মিসাইল ছুড়েছে দেশটি। মনে রাখতে হবে, চীন যেখানে এই মহড়ার আয়োজন করে তার থেকে খুব একটা দূরে নেই ইউএস এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার ও মেরিটাইম ফোর্সেস। কাজেই উভয় পক্ষের পালটাপালটি প্রতিক্রিয়ায় পরিস্হিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তাইওয়ান আক্রমণ চীনের জন্য কোনো কৌশলগত অর্থ বহন করে না, কারণ শুধু নিজের সক্ষমতা ও সাহসিকতা প্রদর্শন ব্যতিরেকে এর ফল বিভিন্ন দিক দিয়ে নেতিবাচকতায় পরিপূর্ণ। মাথায় রাখতে হবে, কোনোক্রমে তাইওয়ানে চীনের অপারেশন ব্যর্থ হলে বিশ্বে চীনের মুখ থাকবে না। উপরন্তু অভ্যন্তরীণভাবে নানা উজ্জ্বল সম্ভাবনা ম্লান হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। কাজেই, চীনের এই সমস্ত উত্তেজনাপূর্ণ কার্যকলাপ যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্সের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ভূ-কৌশলবিদ কিয়াও লিয়াং ইতিমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ানকে জোর করে দখলে নেওয়ার চেষ্টার মূল্য হবে ‘বেশ চড়া’। ‘তাইওয়ান পরমাণুর দিকে ঝুঁকছে কিংবা স্বাধীনতা ঘোষণার পথে হাঁটছে’ এ রূপ ধারণা করা ভুল হবে চীনের জন্য। বস্ত্তত তাইওয়ান এ রকম রেডলাইন এখনো অতিক্রম করেনি। কাজেই চীনেরও সে অনুযায়ী পা বাড়াতে হবে। ‘শক্তি বা বল প্রয়োগ করে স্হিতাবস্হা পরিবর্তন’ তথা মার্কিন রেডলাইন অতিক্রম করা কোনোভাবেই যৌক্তিক হবে না চীনের জন্য। বিশেষ করে, শি জিনপিং তার তৃতীয় মেয়াদে পাকাপোক্ত সিলমোহর দেওয়ার আগে এমন ঝুঁকি নেওয়া চীনের জন্য বেশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। চড়া মূল্য চোকাতে হবে শিকেও।

অতীতে তাইওয়ানের কাছাকাছি সম্মিলিত সামরিক মহড়া চালিয়েছে তাইওয়ান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চীনের চলমান সামরিক মহড়া কিংবা তাইওয়ানের ওপর অবরোধের ছড়াছড়ি দীর্ঘায়িত হলে মালাক্কা প্রণালিতে মার্কিন এবং তার মিত্র দেশগুলোর পক্ষ থেকে একই ধরনের সামরিক মহড়া ও অবরোধ নেমে আসতে পারে। এর ফলে চীন সাগর অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্হা ভেঙে পড়ার মাধ্যমে সংকট, উত্তেজনা প্রসারিত হবে, যা উভয় পক্ষের জন্যই ডেকে আনবে বড় ক্ষয়ক্ষতি।

পেলোসির সফরের সময় এবং সফরের আগে চীনা আগ্রাসন মোকাবিলা করার ব্যাপারে সাহসী বিবৃতি দেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই। জাতীয় চেতনা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আধুনিক অস্ত্র সহায়তা, অবিচল-সংকল্পবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী এবং সর্বোপরি মার্কিন সমর্থনের পরিপ্রেক্ষিতে তাইওয়ানকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। যদিও সম্ভাব্য আক্রমণের প্রথম ধাক্কা সামলাতে হবে তাইওয়ানের নিজেকেই। যতক্ষণ না বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া সক্রিয় ও তীব্র হয় ততক্ষণ এটিকে টেনে নিয়ে যেতে হবে তাইওয়ানকেই।

তাইওয়ানের ঘটনাকে হংকংয়ের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। তবে মনে রাখতে হবে, এখানে বেশ বৈসাদৃশ্য আছে। প্রধান পার্থক্য হলো হংকংয়ের নেতৃত্ব, শ্রেণীবিন্যাস। এবং সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেখানে পুলিশের ওপর প্রভাবক হিসেবে কলকাঠি নাড়ে সিসিপি। অন্যদিকে তাইওয়ানের নেতৃত্ব বেশ শক্তিশালী এবং এই নেতৃত্ব চীনা জবরদস্তির বিপরীতে হার মানতে নারাজ। ভূ-তাত্ত্বিক গঠনের কারণে উভচর আক্রমণের প্রশ্নে তাইওয়ানে চীনের দুঃসাহসিক আক্রমণ পরিচালনা করাও তুলনামূলকভাবে বেশ কঠিন।

ভুলে গেলে চলবে না, তাইওয়ানকে ধ্বংস করার জন্য চীনের কাছে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র অস্ত্র রয়েছে। কিন্তু হান গোষ্ঠীর (তাইওয়ানের জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশ হান) চীনের মূল ভূখণ্ডে তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক, বিনিয়োগ এবং অবিচ্ছেদ্য যোগসূত্র রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বড় ধরনের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো চীনের জন্য কঠিন। তাছাড়া ২ মিলিয়নেরও বেশি তাইওয়ানিজ চীনে বাস করে। বেশির ভাগই উপকূলীয় এলাকায় বাস করে এবং যাদের ২০ শতাংশেরও বেশি সেখানে বিয়ে করে জীবনযাপন করছে।

তাইওয়ানের মোট রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয় চীনের সঙ্গে। ২০২১ সালে চীনের সঙ্গে ১০৪.৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য করেছে দেশটি। ২০২০ সালে তাইওয়ানে একটি জনমত জরিপে উঠে আসে, ৭৩ শতাংশ মানুষ নিজেদের তাইওয়ানিজ হিসাবে দাবি করে এবং ৭৭ শতাংশ হংকংয়ের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সমর্থন করে। এই সংখ্যা গত দুই বছরে বেড়েছে।

এমতাবস্হায়, চলমান উত্তেজনা বেশি দূর গড়ালে তা চীন এবং তাইওয়ান উভয়ের অর্থনীতিকেই ধ্বংস করবে। এর ফলে চীনের বিআরআই বাস্তবায়ন বাধাপ্রাপ্ত হবে। কোভিড মহামারির পর বাণিজ্য যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার যে জন্য চীনা নেতৃত্ব যে সংগ্রাম চালাচ্ছে তা বাধার মুখে পড়বে। আর এসব চীনা নেতৃত্বের জন্য সুখকর হবে না মোটেও।

যাহোক, চলমান পরিস্হিতিতে বাস্তবতা হলো, অবস্হা বেশি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে চীনের প্রাথমিক আক্রমণ হতে পারে তাইওয়ানের ওপর। সেক্ষেত্রে মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে আধিপত্য বাড়াতে চেষ্টা করবে। মার্কিন নৌ বহর ও এয়ার ফোর্স দক্ষিণ চীন সাগরে মহড়া চালাবে। এর ফলে বেইজিংয়ের সামুদ্রিক লাইফলাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। অর্থাৎ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাইওয়ানকে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে যে যুদ্ধাবস্হার সৃষ্টি হবে, তা সীমিত যুদ্ধ থেকে সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ পরিগ্রহ করবে। ‘তাইওয়ানের স্হিতাবস্হার পরিবর্তন কার যাবে না’ মার্কিন যুকাতরাষ্ট্রের এই রেডলাইন অতিক্রম করলে তা হবে চীনের জন্য বড় ক্ষতির কারণ। একই সঙ্গে যুদ্ধ চীনের জন্য একটি বিশাল অর্থনৈতিক ধাক্কা বয়ে আনবে।

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অনিচ্ছা সত্ত্বেও পেলোসি তাইওয়ান সফরে যান, যাকে একটি বেপরোয়া, বিপজ্জনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ বলেছেন অনেকেই। তাদের মতে, এতে করে ভালো কিছু আসবে বলে মনে হয় না। সম্পূর্ণরূপে প্রতীকী (যেহেতু এই সফরকে পূর্বপরিকল্পিত ও পাতানো বলে মনে করছে চীন) এই সফরের মাধ্যমে তাইওয়ান অধিকতর নিরাপদ কিংবা সমৃদ্ধ হবে না। বরং অনেক খারাপ কিছু ঘটতে পারে। যেহারে চীনের মিলিটারি রেসপন্স পরিলক্ষিত হয়েছে, তা সেই ইঙ্গিতই বহন করে। এর ফলস্বরূপ পরমাণু-সজ্জিত রাশিয়া এবং চীনের সঙ্গে পরোক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এটা মনে করা অমূলক হবে না যে, তাইওয়ানে অপ্রয়োজনীয় সফরের কারণে চীনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। সেক্ষেত্রে ইউক্রেনকে ঘিরে রাশিয়ার সঙ্গে অস্তিত্বের যুদ্ধে উপনীত হওয়া ইউরোপীয় মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্হান নেবে স্বভাবতই, যা বিশ্বকে অস্হির করে তুলবে। অর্থাত্, চীন-মার্কিন দ্বন্দ্ব, সংঘাত বাড়তে পারে, যার সুদূরপ্রসারি ফলাফল হিসেবে দেখা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ বিরোধ।

যদি চীনের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি, বিমান আক্রমণ এবং সামরিক মহড়া আর না বাড়ে তবে পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। কেননা এই অঞ্চলে অতীতে সামরিক মহড়া চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাইওয়ানও। কিন্তু চীন যদি জোর করে তাইওয়ানকে একত্রিত করার চেষ্টা চালায়, তবে অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে অগ্রসর হবে। এই অবস্হার সৃষ্টি হলে দাঙ্গা বাধানোর জন্য দায়ী হবে চীন। চীনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড প্রচার পাবে বিশ্বব্যাপী। আর এর চূড়ান্ত ফলাফলে হান চীনাদের জীবনহানি ঘটবে। দ্বন্দ্ব, সংঘাত অর্থনৈতিক ধসের দিকে নিয়ে যাবে উভয় পক্ষকে। এবং এর ফলে চীনের জাতীয় পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্য বিপন্ন হয়ে পড়বে।

ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে মনে হচ্ছে, তাইওয়ান প্রণালি, দক্ষিণ এবং পূর্ব চীন সাগরে চীনের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি অব্যাহতই থাকবে। এমনকি চলমান সংকট প্রশমিত হলেও এর রেশ সহসাই কাটবে না। চীন কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেউই যুদ্ধ চায় না, তবে কেউ কাউকে ছাড়ও দিতে চায় না। বাস্তবিক অর্থে, এই কৌশলগত গেম চলতেই থাকবে।

লেখক: নিরাপত্তা বিশ্লেষক
দ্য ওয়াইওন থেকে ভাষান্তর: সুমৃৎ খান সুজন

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন