গাজীপুরের শালবন রক্ষা করুন

আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ২১:৪২

ঢাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেই ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ৫,০২২ হেক্টর জায়গাজুড়ে পৃথিবীর উন্নত দেশের আদলে অভয়ারণ্যের ছাঁচে ভাওয়াল শালবনে এই উদ্যান গড়ে তোলে। এখানে রয়েছে ২২১ প্রজাতির বৃক্ষ। যার মধ্যে প্রধান বৃক্ষ হলো শাল। স্থানীয় নাম গজারি। শুধু উদ্যানের সীমানাতেই নয়, এ শালবনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে রয়েছে জয়দেবপুর ও শ্রীপুর থানার বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলওয়ের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহে রয়েছে বিপুল সংখ্যক শালবৃক্ষ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির অভাবে আজ তা অনেকটা হুমকির সম্মুখীন। বন বিভাগকে ফাঁকি দিয়ে বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উেকাচ প্রদান করে বনের বিভিন্ন অংশ কেটে বা আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে সেসব স্থানে ঘর তোলা হচ্ছে আর তৈরি হচ্ছে আম-কাঁঠালের কৃত্রিম বাগান। এমনও দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে এক সারিতে শালবৃক্ষ মারা যাচ্ছে। ধারণা—গরম পানি বা তুতে প্রয়োগ করে এসব বৃক্ষ মেরে ফেলা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে সেসব জায়গা চলে যায় ব্যক্তিগত মালিকানায়। বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও মালিকানা দাবি করে সেসব জায়গা দখল করে নেয় ভূমিদস্যুরা। এসব কারণে দিনে দিনে কমছে শালবন, তৈরি হচ্ছে ঘরবাড়ি। এভাবে চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই পুরো শালবন বেদখলে চলে যাবে। নষ্ট হবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর প্রাণীর অভয়ারণ্য। পরিশেষে, বন্য পরিবেশ তথা গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী এ শালবন রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তুফান মাজহার খান

শ্রীপুর, গাজীপুর