শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

যমুনেশ্বরী নদীতে ভাঙছে সড়ক দুর্ভোগে ৫ গ্রামের মানুষ

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২২, ১৯:৫৯

রংপুরের তারাগঞ্জে যমুনেশ্বরী নদীর ভাঙনে ভেঙে যায় ঘাটিয়ালপাড়া যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি। এতে ঘাটিয়ালপাড়া, উজিয়াল, মাছুয়াপাড়া, কাশিয়াবাড়ি ও কালুরঘাটপাড়া এই পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে নিত্য দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী ঘাটিয়ালপাড়া গ্রামটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনেশ্বরী নদী। খরার সময় নদীতে হাঁটু পানি থাকলেও বর্ষাকালে এই নদী রুদ্ররূপ ধারণ করে। এ সময় নদীর দুই পাড়ে ভাঙন দেখা দেয়। এমন এক ভাঙনে ভেঙে গেছে ঘাটিয়ালপাড়ায় যাতায়াতের সড়কটি।

স্হানীয়রা জানায়, প্রথম দফায় ২০২০ সালের বন্যায় কাশিয়াবাড়ি ঘাটিয়ালপাড়া যাতায়াতের সড়কটি নদীতে ভেঙে যাওয়ায় ঐ এলাকার লোকজন গ্রাম থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয়বারের বন্যায় ২০২১ সালে সেটিও ভেঙে যায়। পরবর্তী সময় স্হানীয়রা আবারও চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে। 

ভাঙনকবলিত ঘাটিয়ালপাড়া গ্রামের নুর হোসেন, মোরশেদ আলী, আছিয়া বেগম ও ফাতেমা বেগমসহ একাধিক গ্রামবাসিরা জানান, সড়কটি ভেঙে নদীতে যাওয়ায় সড়কের ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে পারাপার হচ্ছিলাম। কিন্তু পরের বন্যায় সেটিও নদীতে চলে গেছে। এ বছরও গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছে। বর্তমানে সেটিও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে হাড়িয়ারকুঠি ইউপি চেয়ারম্যান কুমারেশ রায় বলেন, আমি জনপ্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ঐ সড়ক ও নদী ভাঙনের বিষয়ে উপজেলা মাসিক সমন্বয় কমিটিতে রেজুলেশন আকারে জানিয়েছি। বেশ কয়েকবার এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। কিন্তু নদীতে বাঁধ না দেওয়ায় কোনো ভাবেই নদীর ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, নদী ভাঙনের বিষয়টি একাধিকবার সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডেও জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ হায়দার জামান বলেন, সড়কটির ভাঙনের বিষয়ে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে সেখানে ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে। 

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানা গেল, দায়িত্বরত প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে। 

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন