শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বঙ্গবন্ধু হত্যার সম্পূর্ণ বিচার আমরা পাইনি: ড. আবদুল ওয়াদুদ 

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২২, ২০:১৬

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা ফিকামলি তত্ত্বের জনক, লেখক, গবেষক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড.  আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার সম্পূর্ণ বিচার আমরা পাইনি-আংশিক পেয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের পূর্বপ্রস্তুতি সম্পর্কে যারা জানতেন, এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করতে যারা ইন্ধন যুগিয়েছেন, পেছন থেকে যারা কলকাঠি নেড়েছেন, খুনিদের আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য বৈকি! 

সোমবার (১৫ আগস্ট) ঢাকার হাতিরপুলস্থ ‘ফিকামলি সেন্টার—প্লাটিনাম জিম’ প্রাঙ্গণে  অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় তিনি বলেন, বিপথগামী উশৃঙ্খল সেনাসদস্যরা যারা ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তারা  মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ ছিল না। অপরাধ প্রবণতা শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, নিয়মিতভাবে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃংখলা বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা—কর্মচারী, শিক্ষিত সমাজের মাঝেও লক্ষ্য করা যায়। তাই মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবেই। তাই শারীরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার মতো নিয়মিতভাবে মানসিক স্বাস্থ্যও পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এক্ষেত্রে ফিকামলি অনুশীলন মনের সুস্থতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরও সামরিক স্বৈরশাসকেরা এইসব নরপিশাচ খুনিদের কাউকে কাউকে এমপি বানিয়েছেন,  মন্ত্রী বানিয়েছেন,  তাদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন । এ হত্যাকাণ্ডের দায়  তারাও এড়াতে পারেন না। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এদেশের আকাশছোঁয়া উন্নয়নের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রকারীরা আবার মাঠে নেমেছে, দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।   

বিএনপি'র মিছিলে স্লোগান দিতে শোনা যায়- ‘৭৫— এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’। এর অর্থ কী? তারা কি ৭৫—এর মতো আরেকটি নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটাতে চায়! আমরা বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি, আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হারাতে চাই না।

ড. আবদুল ওয়াদুদ আরও বলেন, অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করে বিএনপি'র লোকজন দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পেছনের দরজা দিয়ে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে তারা ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধুর ভক্ত অনুরাগী   ও প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা সদা প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক ও একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।       

যারা ১৫ই আগস্টকে সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশে একটি অস্থিতিশীল প্রেক্ষাপট তৈরি করে রাজনীতিতে দেশপ্রেম বিকিয়ে লুটপাটের রাজনীতি বা হালুয়া—রুটির রাজনীতি শুরু করেছিল, তারাই আজ অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ন্যায় নানারকম প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ, বিশেষ করে দেশি এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের আশ্রয় এবং প্রশ্রয়ে পুনরায় ১৫ ই আগস্ট—এর  অনুরূপ একটি রক্তক্ষয়ী বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করে এই জাতির উন্নয়নকে চিরতরে রুখে দিতে চায়। আমাদের আগামী নির্বাচনের পূর্বে এ বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

দেশি—বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বারবার সতর্ক করে দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে ‘একুশে আগস্ট’—এর গ্রেনেড হামলার শিকার হয়েছেন। পিতার মতো অকুতোভয় সৈনিকের মতো রাজনীতি থেকে সরে যাননি। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মতো ইতিহাসের জঘন্য অন্যায়কে যারা প্রশ্রয় দিয়েছে, জাতি হিসেবে পর্যায়ক্রমে তাদেরও বিচারের আওতায় আনার সময় এসেছে কি না ভেবে দেখতে হবে। তাছাড়া মানবাধিকারের নামে যেসব খুনি বিভিন্ন দেশের আশ্রয়—প্রশ্রয় পেয়ে আসছে. তাদের ব্যাপারে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলে, কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় চাপ প্রয়োগ করে তাদের ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকর করা এখন বঙ্গবন্ধুর ভক্ত—অনুরাগীদের একান্ত দাবি। তাছাড়া রাজনীতিতে যারা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রশ্রয় দিয়েছেন, বিশেষ করে জেনারেল এরশাদ এবং জিয়াউর রহমান তাদেরও এ বিষয়ে ঐতিহাসিক  দায় রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নাই। দার্শনিক কে হত্যা করা যায়। কিন্তু তাঁর দর্শন কে হত্যা করা যায় না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শন বেঁচে থাকবে বাঙালির হৃদয়ে  হাজার বছর। শোককে  শক্তিতে রূপান্তর করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে তিনি  সবাইকে আহ্বান জানান।  

ঢাকার হাতিরপুলস্থ ‘ফিকামলি সেন্টার—প্লাটিনাম জিম’  প্রাঙ্গণে  অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  মুক্তিযোদ্ধা  সেন্ট্রাল  কমান্ড কাউন্সিল—এর সাবেক চেয়ারম্যান  বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান। তিনি ছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. শামসুদ্দীন ইলিয়াস,  বাংলাদেশ কলেজ—বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি প্রফেসর ড. আজিজুর রহমান। 

আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. কাজী সাইফুদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ কামাল  উদ্দিন, বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতির সহসভাপতি ফারুকুল ইসলাম, প্রফেসর মাছুদা বেগম। বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কলেজ—বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিল।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি