সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সম্প্রসারণে পরিকল্পনা

আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ২২:৩৪

যাত্রী পরিবহনের দিক থেকে দেশের অন্যতম বৃহত্ নদীবন্দর ঢাকার সদরঘাট। দক্ষিণাঞ্চলের ১৬ জেলার লক্ষাধিক যাত্রী প্রতিদিন এ নদীবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেন। সরকারি ছুটি ও বিভিন্ন উত্সবে এ সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে, ঈদ উত্সবে কয়েক লাখ মানুষ যাতায়াত করে এ বন্দর দিয়ে। তবে বন্দর এলাকার যানজট, হকার, চাঁদাবাজ, ঘাটের কুলিদের হয়রানি, যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা, পানির দুর্গন্ধের কারণে সদরঘাট দিয়ে যাতায়াতে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। তবে এ সমস্যা সমাধানে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সকল সুযোগ-সুবিধাসহ নদীবন্দরকে আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলতে চায় কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের  সূত্রে জানা যায়, সদরঘাটে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য টার্মিনাল বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পৃথক জেলার জন্য পৃথক ঘাট স্থাপন করা হবে। প্রতিটি রুটের জন্য আলাদা ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন, যেখানে যাত্রীরা কোন লঞ্চে উঠবেন, লঞ্চ কোথায় অবস্থান করবে এসব তথ্য থাকবে। যে কোনো রুটের টিকেট অনলাইনেই কাটার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া নৌযানে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা, ড্রেজিংয়ের জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যাত্রীদের হয়রানি কমাতে নৌযান শ্রমিকদের সদাচরণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান, টার্মিনাল এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, যাত্রী হয়রানি ও যানজটমুক্ত এবং যাত্রীবান্ধব আধুনিক ঢাকা নদীবন্দর গড়ে তুলতে চায় কর্তৃপক্ষ। এ পরিকল্পনার লিখিত আবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা নদীবন্দর টার্মিনালে এ সংক্রান্ত যৌথসভাও করেছে সংস্থাটি। সেখানে সেবা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সদরঘাট দিয়ে চলাচল করা একাধিক যাত্রী বলেন, সদরঘাটে এলে আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। বর্তমানে টার্মিনাল ভবন আধুনিকায়ন হয়েছে। তবে সদরঘাট দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে এখনো নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। বিশেষ করে ঈদ মৌসুমে থাকে চরম অব্যবস্থাপনা। হকারদের দৌরাত্ম্য, লঞ্চ শ্রমিকদের যাত্রীদের নিয়ে টানাহ্যাঁচড়ার কারণে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয় যাত্রীরা।

জানা যায়, নৌবন্দরটি যাত্রীবান্ধব করতে যাত্রীদের চলাচলের সুবিধার জন্য চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউর মোড় থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা টেম্পুস্ট্যান্ড ও দোকানপাট উচ্ছেদ করে রাস্তা যানজটমুক্ত করা হবে। এছাড়া টার্মিনাল এলাকায় সিসি ক্যামেরার সংখ্যা বাড়িয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং নিশ্চিত করা, অনলাইন অথবা কাউন্টারে টিকিট কেটে যাত্রীদের লঞ্চে ওঠার ব্যবস্থা করাসহ নানা সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। যানজট এড়াতে শ্যামবাজার ও বাদামতলী এলাকায় সবজি ও ফলের আড়ত অন্যত্র স্থানান্তর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের টিনশেড মার্কেটটি অপসারণ করে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ থেকে সদরঘাট অভিমুখী রাস্তাটি দুই লেনে করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যৌথ সভায় সদরঘাটে ভোরে আসা যাত্রী সাধারণকে সু-শৃঙ্খলভাবে অবস্থান করাতে পুলিশ প্রশাসনের তত্পরতা বৃদ্ধি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ঢাকা নদীবন্দরের যুগ্ম-পরিচালক মো. আরিফ উদ্দিন জানান, সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় হকার, চাঁদাবাজ, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টির দৌরাত্ম্য ও কুলির হয়রানি বর্তমানে অনেক কমানো সম্ভব হয়েছে। টার্মিনালের ভৌত অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বন্দরে যাত্রীদের সুবিধার্থে তিনটি ডিজিটাল ডিজপ্লের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে যাত্রীদের জন্য কোন রুটের কোন নৌযানটি কখন ছাড়বে তার তথ্য থাকছে। এরই মধ্যে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। নদীবন্দরে এখন দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান ও সুবজ বৃক্ষরাজি শোভিত পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ঢাকা নদীবন্দরের চিত্র দ্রুত পাল্টে যাবে।