শিশুশ্রমের প্রধান কারণ দারিদ্র্য

আপডেট : ১১ জুন ২০১৯, ২২:৩৬

আজ বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস

মোরশেদা ইয়াসমিন পিউ

দেশে শিশুশ্রমের প্রধান একটি কারণ দারিদ্র্য। অভাবের সংসারের দায়িত্ব নিতে কিংবা নিজের খাবার জোগাতে শিশু-কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে শ্রমে। দরিদ্র এসব শিশুর অধের্কের বেশি শিশুশ্রমের সঙ্গে জড়িত। তারা তাদের অধিকার সম্পর্কেও জানে না। ফলে কাজ করতে এসে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হয়। আর শিশু শ্রমিককে কাজে নিতে মালিকপক্ষ বেশ আগ্রহী। কারণ তাদের সহজেই কম-মজুরিতে নিয়োগ দেওয়া যায় এবং বেশি সময় কাজ করিয়ে নেওয়া যায়। ফলে শিশুশ্রমের চাহিদা সমাজে বেশ লোভনীয়। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুশ্রম বন্ধে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মানসিকতারও পরিবর্তন আনতে হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শিশুশ্রম জরিপের তথ্য মতে, শ্রমশক্তিতে শিশু রয়েছে সাড়ে ৩৪ লাখ। এর মধ্যে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত। দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখে। ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সি এ শিশুরা পূর্ণকালীন শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। সব মিলিয়ে দেশে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার শিশু কোনো না কোনোভাবে শ্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহায়তায় এ প্রতিবেদন করা হয়। আর্থিক অনটন ছাড়াও পরিবারের সহযোগী হয়ে তারা শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছে। দেশে ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে যে শিশুরা সপ্তাহে এক ঘণ্টার বেশি কর্মে নিয়োজিত থাকে তাদের সংখ্যা প্রায় ৩৪ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে ১৭ লাখ শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। সব মিলিয়ে ১২ লাখ ৮০ হাজার শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ২ লাখ ৬০ হাজার শিশু অপেক্ষাকৃত বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কর্মে নিয়োজিত রয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিলসেন কোম্পানির, বাংলাদেশ শাখার এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু শ্রমিকদের শতকরা ৫৭ ভাগ মারধরের শিকার। তারা ১১ বছর বয়স থেকেই বিভিন্ন কাজের সঙ্গে জড়িত। তাদের শতকরা ৭৯ ভাগ প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই ঝরে পড়ে। ‘বাংলাদেশের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে শিশু শ্রম পরিস্থিতি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে আজ ১২ জুন পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে দিবসটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দরিদ্রতার কারণে দেশের কয়েক লাখ শিশু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। এরা কর্মক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে ২৬২টি শিশু বিভিন্ন ধরনের শারীরিক নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি শিশু গৃহকর্মী কর্মস্থলে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, ১২টি শিশু অ্যাসিডদগ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া ১৩৯টি শিশুকে পিটিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। যার মধ্যে ১০ জন শিশু পিতা-মাতার হাতে নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর সাবিরা নূপুর বলেন, কলকারখানায় ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের নিয়োজিত করার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করা না গেলে শিশুশ্রম আশানুরূপ কমিয়ে আনা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে কীভাবে সরিয়ে আনা যায় তা নিয়ে সরকার বিভিন্ন এনজিও সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।