রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আমন চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফুলবাড়ীর কৃষক

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২২, ১৫:১৮

চলতি রোপা আমন চাষ মৌসুমের শুরতেই অনাবৃষ্টির খরা, বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে সার ও ডিজেলের মূল্য। সার ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব পরেছে কৃষির সব ক্ষেত্রে। চাষাবাদে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত খরচ। শত দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়েই দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষকরা আমন চাষে মাঠে নেমেছেন।
 
সপ্তাহ দুয়েক আগে অনাবৃষ্টির খরায় খানিক বৃষ্টিতে কৃষকের বুক কিছুটা শীতল হলেও আবার শুরু হয়েছে খরতাপসহ অনাবৃষ্টি। ফলে আমনের চারা রোপণের কাজ শেষ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। 

এরইমধ্যে বিদ্যুৎ সংকট আর সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা ও ডিজেল ৩৬ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষককের আবাদ খরচ বেড়ে গেছে। মৌসুমের শুরুতেই অনাবৃষ্টিতে মাঠে মাঠে আমন রোপণে সেচ দিয়ে চাষাবাদ শুরু হয়। শ্রাবণেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আমন উৎপাদনের খরচ উঠানো নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা। 

এদিকে বাজারে পটাশ (এমওপি) সারের ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। পটাশ সারের সংকটের বিষয়ে সার ডিলার খোরশেদুল আলম লালু বলেন, চাহিদানুযায়ী পটাশ সার সরবরাহ না পাওয়ায় কৃষকদের চাহিদানুযায়ী সরবরাহ করা যাচ্ছে না। রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমদানী কমে যাওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে।

উপজেলার কিসমত লালপুর গ্রামের কৃষক রাজ কুমার বলেন, তিন একর জমিতে এবার আমন আবাদ করেছেন। চারা রোপণ শেষ হয়েছে। সার ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার খরচ গত বছরে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা হলেও এবছর খরচ হচ্ছে প্রায় পাঁচ হাজার। আবাদ খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ উঠবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। 

রাজারামপুর গ্রামের কৃষক গণেশ চন্দ্র বলেন, তিনি তিন একর জমিতে আমণ ধান রোপণ করেছেন। ইতোপূর্বে এক একর জমি চাষাবাদ করতে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় সম্ভব হতো। কিন্ত এবার সার ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ও সেচ দিতে এক একর জমিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ছয় হাজার। চাষাবাদ খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে এ অবস্থায় বর্গা চাষিদের কোন লাভ থাকবে না।  

উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট আবাদি জমির পরিমাণ ২২ হাজার ৮৪৯ হেক্টোর। উপজেলা কৃষক রয়েছে ৩২ হাজার ৫৫৫ জন। উপজেলায় বিসিআইসি’র সার ডিলার রয়েছে ১০ জন এবং বিএডিসি ১২ জন। চলতি আমন চাষ মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই উপজেলার ৭০ শতাংশ জমিতে আমন রোপণ কাজ শেষ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রুম্মান আক্তার বলেন, এখনো আমন ধান রোপণের সময় আছে। শেষ তক আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। এজন্য কৃষি বিভাগ তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। 

ইত্তেফাক/এআই