রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নির্মাণাধীন প্রকল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত জরুরি 

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২২, ০২:৪৩

উন্নয়নশীলতার যুগে নির্মাণাধীন প্রকল্পে দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনার যৌক্তিকতা অপরিসীম। আবার সেই নির্মাণাধীন প্রকল্পটি যদি হয় সাধারণ মানুষের খুব নিকটে তাহলে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারীদের নেওয়া উচিত বাড়তি সতর্কতা। জনমানবের উন্নয়নে নির্মাণাধীন যে কোনো প্রকল্প নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় তবে দুর্ঘটনা ঘটার আগেই নেওয়া উচিত বাড়তি প্রতিরক্ষা যেন প্রকল্পের নিকটস্থলে থাকা সাধারণ মানুষ এবং কর্মরত শ্রমিকদের জীবন থাকে সর্বদা নিরাপত্তায়।

১৫ই আগস্ট গোটা দেশ যখন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি আমাদের মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনে আচ্ছন্ন ঠিক সেদিন রাজধানীর উত্তরার জসিমউদ্দিন রোডেরসংলগ্ন নির্মাণাধীন প্রকল্পের গার্ডার ক্রেন দিয়ে স্থানান্তরের সময়, একই পরিবারের অন্তত পাঁচ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলার সময়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আবার, এবছর ১৫ জুলাই গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের নির্মাণাধীন উড়াল সড়কের লঞ্চিং গার্ডার একটি টেইলর গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সেই সময় গার্ডারটি উলটে সড়কের ওপরে পড়লে এর নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছিলেন ৩২ বছর বয়সি একজন নির্মাণশ্রমিক। এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটার পেছনের গল্পটি নিয়ে একটু চিন্তা করা প্রয়োজন।

প্রথমত, প্রকল্পসমূহ নির্মাণের সময় উপযুক্ত নিরাপত্তার অভাব ছিল। কোনো প্রকল্প নির্মাণ করার ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ হলো, উপযুক্ত চিহ্ন (ডেঞ্জার জোন, সেইফটি হেলমেট পরিধান) স্থাপন করা, প্রকল্পের চারদিকে নিরাপত্তা বলয় প্রদান করা। এর মাধ্যমে জনবহুল অঞ্চলে জনতার চিন্তায় দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতার সৃষ্টি হয়। আবার নির্মাণাধীন প্রকল্প কর্তৃপক্ষের উচিত এসব জনবহুল অঞ্চলে কাজ করার জন্য একটি বিশেষ সময় নির্ধারিত করা। ফলে, অঞ্চলটিতে যখন জনবহুলতা কম থাকবে তখন নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপদে কাজ সম্পন্ন করা যাবে এবং জীবন হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা কমে আসবে। দ্বিতীয়ত, নির্মাণ প্রকল্পে জড়িত সব শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আশা উচিত। কেননা একজন শ্রমিক নিজের অজান্তেই ছোট একটি ভুল করে বসলে তার মাশুল গুনতে হয় দুর্ঘটনায় প্রাণহানির মাধ্যমে। তৃতীয়ত, যারা এ উক্ত প্রকল্পগুলো সর্বদা পর্যবেক্ষণ করেন তাদের উচিত দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যবেক্ষণ এবং প্রকল্প পরীক্ষায় দৃঢ় মনোযগী হয়ে ওঠা।

সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রার মান যেমনটিভাবে বাড়িয়ে তুলতে পারে একটি উন্নত রাষ্ট্রীয় প্রকল্প, তেমনি উক্ত প্রকল্প নির্মাণকালে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা জনজীবনে জীবনযাত্রার মান কমিয়েও আনতে পারে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য উপাদান। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানেও সে অধিকারগুলোর স্বীকৃতি দেয়। সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অধ্যায়ে ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বেঁচে থাকার এ মৌলিক প্রয়োজনের কথা বলা আছে। তাই নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোর আশপাশে চলাচলকৃত মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিতে সরকার এবং সংশ্লিষ্টদের সোচ্চার হতে হবে। এর পাশাপাশি সরকারের এসব প্রকল্প নির্মাণের ক্ষেত্রে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাস্তবায়নযোগ্য ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়। কেননা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার সর্বদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

লেখক : শিক্ষার্থী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন