বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পরমাণু কেন্দ্রের কাছে ইউক্রেনের ড্রিল

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২২, ১০:৫৭

ঝাপোরিজ্ঝিয়া পরমাণু কেন্দ্রের সামনে ড্রিল করেছে ইউক্রেনের সেনা। ক্রিমিয়ার ফের বিস্ফোরণ।ঝাপোরিজ্ঝিয়া পরমাণু কেন্দ্র এখনো রাশিয়ার দখলে।

অভিযোগ, ওই পরমাণু কেন্দ্রের ভিতর থেকে আক্রমণ চালাচ্ছে রাশিয়ার সেনা। এবার সেই কেন্দ্রের সামনেই পরমাণু দুর্ঘটনার ড্রিল করল ইউক্রেনের সেনার বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। রীতিমতো পরমাণু রেডিয়েশন প্রতিরোধক পোশাক পরে তারা ড্রিল করেছে। একজন ব্যক্তিকে আক্রান্ত হিসেবে সাজানো হয়েছিল। কীভাবে তাকে দ্রুত উদ্ধার করা যাবে, তার ড্রিল হয়েছে। 

ইউক্রেন জানিয়েছে, রাশিয়া যেভাবে ওই প্রকল্পটি থেকে আক্রমণ চালাচ্ছে, তাতে যে কোনো দিন বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনা ঘটলে কীভাবে মানুষকে উদ্ধার করা হবে, তারই ড্রিল হয়েছে বুধবার। 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বার বার অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ওই প্রকল্পটির ভিতর থেকে লড়াই করছে বলে তারা জবাব দিতে পারছেন না। যদিও ওই প্রকল্পের ভিতরে একাধিকবার বিস্ফোরণ হয়েছে। যার যেরে প্লান্টের কিছু অংশ বন্ধও করে দিতে হয়েছে। এর জন্য রাশিয়া ইউক্রেনের দিকে আঙুল তুলেছে। ইউক্রেন পাল্টা রাশিয়ার দিকে আঙুল তুলেছে।

জাতিসংঘ জায়গাটিকে দ্রুত সেনাশূন্য করার আবেদন জানিয়েছে। জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত রাশিয়া সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করেনি। 

ক্রিমিয়া বিস্ফোরণ মঙ্গলবার রাতে জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ক্রিমিয়া রাশিয়ার সেনাঘাঁটিতে তীব্র বিস্ফোরণ হয়েছে। ঘটনায় সেনাঘাঁটির বিপুল ক্ষতি হয়েছে তার দাবি। 

তবে বিস্ফোরণের দায় ইউক্রেনের নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। কীভাবে বিস্ফোরণ হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি। রাশিয়াও বিস্ফোরণের কথা স্বীকার করেছে। তবে তার জন্য বেশি ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে তারা। রাশিয়াও বিস্ফোরণের জন্য সরাসরি ইউক্রেনের দিকে আঙুল তোলেনি। 

তাদের বক্তব্য, ক্রিমিয়া তাদের ঘাঁটিতে কেউ কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করছে। ভিতর থেকেই বার বার বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। কিন্তু কারা একাজ করছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। 
জেলেনস্কি বলেছেন, একাধিক বিস্ফোরণে রাশিয়ার প্রচুর গোলাবারুদ নষ্ট হয়েছে। ওই গোলাবারুদ রাশিয়া ইউক্রেনের মানুষের উপর ব্যবহার করতো। তারা খুশি যে বিস্ফোরণ হয়েছে। 
কৃষ্ণসাগরের কম্যান্ডার বিতর্ক রাশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজে যে কম্যান্ডার ছিল তাকে বদলি করা হয়েছে। 

কিন্তু অন্য একটি সংবাদমাধ্যম প্রশাসনকে উদ্ধৃত করে লিখেছে, ওই যুদ্ধজাহাজে কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরে ক্রেমলিন আলাদা বিবৃতি দিয়েও জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমের দাবি মনগড়া। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো বিতর্ক হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি