চীন নিয়ে এমনিতেই অনেক বিতর্ক চলে এই বিশ্বে। শ্রেণীবিহীন চুরির অভিযোগ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি লঙ্ঘন করার জন্য ঋণ দিয়ে দরিদ্র ও দুর্বল দেশগুলোকে বোঝায় পরিণত করা। এছাড়াও তিব্বতি ও উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার নিয়েও অনেক বিতর্কে জড়িত এই দেশটি। সম্প্রতি নতুন অভিযোগ এসেছে যে চীন বিদেশি দূতদের জন্য কবরস্থানে পরিণত হয়েছে। হংকং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
চলতি বছর ৭ আগস্ট চীনে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ মিও থান্ট পে-এর আকস্মিক মৃত্যু ঘটে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কুনমিং, বেইজিং-এ। গত বছর থেকে এটি ছিল মিশন প্রধানের চতুর্থ মৃত্যু। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রদূত উ মিও থান্ট পে-এর শোকবার্তায় তার মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তিনি ২০১৯ সালে চীনে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত হন।
জার্মান রাষ্ট্রদূত জ্যান হেকার, ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত সের্হি কামিশেভ ও ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত হোসে সান্তিয়াগো চিটো স্টা সকলেরই মৃত্যু হয় চীনে। যার ফলে মনে করা হচ্ছে এই দেশটি বিদেশি দূতদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতির ইতিহাসে, ভিন্ন রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার প্রায়ই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যা ও ব্যক্তিগত অসুস্থতার শিকার হয়েছে। একটি অনুমান অনুযায়ী, এই পর্যন্ত
ইসরায়েলে চীনের রাষ্ট্রদূত ডু ওয়েই সহ মোট ১৩ জন বিদেশি রাষ্ট্রদূতের মৃত্যু ঘটেছে। যদিও বেশিরভাগ নিহত হয়েছে বন্দুকের গুলিতে। চীনে ১২ মাসের ব্যবধানে অজানা কারণে চারজন রাষ্ট্রদূতের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে বিশ্বের কূটনৈতিক মহলে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
এছাড়াও চীনে জার্মান রাষ্ট্রদূত জ্যান হেকার (৫৪) বেইজিংয়ে তার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরে হঠাৎ কীভাবে মারা গেলেন তা এখনও জানা যায়নি। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছিল, হেকারের মৃত্যু তার রাষ্ট্রদূত হওয়ার সাথে যুক্ত বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
