রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ডিজেল-সারের দাম বাড়ায় আমন চাষে অনিহা কৃষকদের 

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২২, ১২:৫৫

সার-জ্বালানি তেলের দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় দ্বীপ জেলা ভোলার বোরহানউদ্দিনের আমন চাষিরা দুশ্চিন্তায়। বাড়তি খরচ জোগাড় করতে অনেকেই ঋণের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছেন। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র কৃষকরা। ফসল বিক্রি করে উৎপাদন খচর তুলতে পারবেন কিনা এমন চিন্তা তাদের। এসব কারণে আমনের আবাদ কমছে। 

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক, সার বিক্রেতা ও কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বীজতলা তৈরি ও পরবর্তী সময়ে চারা রোপণের জন্য পাওয়ার টিলারের মাধ্যমে চাষ দিতে হয়। ডিজেলের দাম বেড়েছে লিটারে প্রায় ৪২.৫ শতাংশ। এর ঠিক তিন দিন আগে ইউরিয়া সারের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ডিজেলের দাম বাড়ায় পাওয়ার টিলারের খরচ বেড়ে গেছে। ধান কাটা ও মাড়াইয়ে যন্ত্র ব্যবহার হলে সেখানেও ডিজেল বা পেট্রোলের ব্যবহার রয়েছে। চারা রোপণ, আগাছা পরিষ্কারসহ নানা কাজে প্রয়োজনীয় শ্রমিকদের মজুরিও বাড়ছে। পরিবহন খরচ বাড়ায় কীটনাশক ও বালাইনাশকের খরচ বাড়বে। চলতি আমন মৌসুম থেকেই এ বাড়তি বোঝা টানতে হবে কৃষকদের।

বড় মানিকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট ব্লকের কৃষক, ও রেশাদ আলী, এছহাক আলী বলেন, গত ১০ আগস্ট রোপণ শুরু করলাম। আগে ১ একর জমি চাষ করতে পাওয়ার টিলারের খরচ হতো ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এখন হয় ৪৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা। ইউরিয়া সার বাবদ খরচ হতো ১২০০ টাকা। বৃদ্ধিপ্রাপ্ত দামে এখন হয় ২২৫০ টাকা। সরকার ২২ টাকা সারের কেজি করলেও আমাদের কিনতে হয় ৩০ টাকা দরে। শ্রমিকের মজুরি  ৫০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা বাড়ছে। গত বছর ৪ একর জমিতে আমন চাষ করছি। এবার শুধু খোরাকির জন্য ২ একরে চাষ করবো। আমাগো ধানের দাম বাড়ছে না। গেরস্তি (হালচাষ) আর করমু না। গরু পালমু, আর ভাত খাইমু। 

সাচড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক আবুল কালাম বলেন, এবার ৫ একর জমি আমন আবাদের চিন্তা করছিলাম। কিন্তু বর্তমানে তা সম্ভব হবে না। কারণ কিছু নিচু জমি চইতে (চাষ করা) পারলেও পানির অভাবে বেশি পরিমাণ জমি চইতে পারিনি। মঙ্গলবার অতি জোঁয়ারে আবার ডুবাইয়া গেছে। যতটুকু ধান ১ বছরের খোরাকির জন্য লাগবো তা চাষ করবো। বাকি জমি একশনা লাগিয়ে ফেলবো।

কুতুবা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের চাষি অহিদ সর্দ্দার বলেন, তেল, সার, শ্রমিকের মজুরি সবই বাড়ছে। শুধু বাড়ছে না কৃষকদের মালামালের দাম। আগে ৬ একর জমিতে আমন চাষ করছি। শুধু খোরাকির জন্য এবছর আড়াই একর জমিতে আমন চাষ করবো। এখন চাষাবাদ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আমাদের আর উপায় নাই।  

বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে আমন মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে উপশী এবং ২ হাজার ৯ শত হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার ফিরোজ আলম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান রনি, খায়রুল আলম মুন্সি বলেন, সার ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে খুব বেশি ক্ষতি হবে না কৃষকদের। আমরা উচ্চফলনশীল ধান উৎপাদনে উৎসাহিত করছি। এতে কৃষকরা যে সামান্য ক্ষতির মুখোমুখি হতো, তা কাটিয়ে উঠতে পারবে তারা।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এইচএম শামীম জানান, খরিপ-২ ফসল চাষের আদর্শ সময় হলো ১৬ জুলাই থেকে ১৫ অক্টোম্বর। সে অনুসারে আমন চাষ দেরিতে হয়েছে বলা যায় না। সার ও ডিজেলের মুল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বাড়বে। সাথে সাথে কৃষকদের ফসলের দাম বাড়বে। তাদের মুনাফাও বাড়বে। সারের ব্যাপারে মনিটরিং কার্যক্রম জোড়দার করা হবে।

ইত্তেফাক/মাহি