বৈরী আবহাওয়ায় কূলে ফেরার সময় কক্সবাজারের নাজিরারটেক পয়েন্টের অদূরবর্তী সাগরে মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ আরও ৫ জেলের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ থাকা আটজনের মধ্যে সাতজনের লাশ দুদিনে উদ্ধার হলো। তারা সবাই খুরুশকুল ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের জেলে বলে জানিয়েছেন ট্রলার মালিক জাকের হোসেন।
রবিবার (২১ আগস্ট) কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ ও বোট মালিক জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আরও একজন জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, নিখোঁজ ৮ জনের মধ্যে গত শনিবার উদ্ধার করা হয় ২ জনকে। রবিবার দুপুরে ৩ জন এবং বিকেলে ২ জনের মৃতদেহ কোস্টগার্ডের সহযোগিতায় উদ্ধার করে স্থানীয় জেলে ও তাদের আত্মীয় স্বজনরা। এই নিয়ে মোট মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ৭ জন।
এরা হলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের নাজির হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৮), ছৈয়দ নুরের ছেলে নুরুল ইসলাম (৩৫), খুরুশকুলের পূর্ব হামজার ডেইলের মৃত মো. সুলতানের ছেলে হোসেন আহমদ (৪২), খুরুশকুলের মামুন পাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে আজিজুল হক (৩২), ও হামজার ডেইল এলাকার নুরুল হকের ছেলে মো. আবছার (২২)। গত শনিবার বিকালে তৈয়ব ও সাইফুল নামের দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকালে কক্সবাজারের নাজিরারটেক পয়েন্টের অদূরবর্তী সাগরে বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে এফবি মায়ের দোয়া নামের মাছ ধরার ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সদর উপজেলার খুরুশকূলের জাকির হোসাইনের মালিকানাধীন এ ট্রলারটি ১৯ জেলে নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়। পরে ফেরার সময় ট্রলারটির দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় কোস্টগার্ড সদস্য ও অন্য জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে ৮ জনকে উদ্ধার করলেও ১১ জন নিখোঁজ ছিল। পরে শুক্রবার রাতে সাগরে অবস্থানকারী বিভিন্ন ট্রলার নিখোঁজ থাকা ৩ জেলেকে উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার শিকার ট্রলারটি এখনো উদ্ধার হয়নি।
পরিদর্শক সেলিম উদ্দিন বলেন, রবিবার সকালে কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর মোহনা সংলগ্ন সাগরে স্থানীয় জেলেরা তিনটি মৃতদেহ ভাসতে দেখে। তারা অর্ধ-গলিত অবস্থায় মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে ট্রলারে তুলে নেয়। পরে স্বজনরা মৃতদেহগুলো শনাক্ত করার পর খুরুশকূলে বাড়ীতে নিয়ে যায়। বিকেলে আরো দুইজনের মরদেহ একই এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজনরা লাশের ময়নাতদন্ত না করতে অতিরিক্ত জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে আবেদন করেছেন। বিনা তদন্তে মৃতদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
