তিতুমীর কলেজের ক্যান্টিন

সবাই খাবার পায় না, কেউ কেউ পায়

তিতুমীর কলেজের ক্যান্টিন 

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২২, ২২:৩২

ঘড়ির কাঁটায় তখন কেবল বেলা সাড়ে ১১ টা। ক্লাসের বিরতিতে কজন বন্ধু মিলে গেছেন তিতুমীর কলেজের নতুন ক্যান্টিন তোলপাড়ে। তাদের একজন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের রনি। ভাবলেন বন্ধুদের সঙ্গে চা, সিঙ্গারা খাবেন। কিন্তু বিধিবাম! ক্যান্টিনে কোনো খাবার নেই। বাধ্য হয়ে খালি মুখেই ফিরে যেতে হলো। রয়েছে এমন অহরহ অভিযোগ-অনিয়ম। যেন শুরুতেই হযবরল অবস্থায় সরকারি তিতুমীর কলেজের ক্যান্টিন তোলপাড়। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বলছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা কথা। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উদ্বোধনের প্রায় এক মাস হতে চলেছে। তবে এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি ক্যান্টিনের কার্যক্রম। নামমাত্র সিঙ্গারা, চা বিক্রি পাওয়া যায় তাও সেটা বাইরে থেকে কিনে আনা হয়। সেটিও আবার ফুরিয়ে যায় ঘন্টা দুয়েকের মধ্যেই। 

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, দুপুরের আগেই বন্ধ হয়ে যায় ক্যান্টিন। যার ফলে ক্যাম্পাসের ক্যান্টিন থাকা স্বত্বেও শিক্ষার্থীরা আগের মতোই ক্ষুধা নিবারণের জন্য ছুটছেন ক্যাম্পাসের বাইরের হোটেলগুলোতে। 

দেখা যায়, বেলা ১২টার আগেই শেষ হয়েছে সব খাবার। শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিনের খাবার নিতে এসে না পেয়ে ফিরে যায় আবার কিছু কিছু শিক্ষার্থী বাহির থেকে নিয়ে এসে ক্যান্টিনে বসে খায়। 

ক্যাম্পাসে সারাদিন থাকার জন্য শুধু সিঙ্গারা, চা যথেষ্ট নয় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। তারা বলেন, ক্যান্টিন উদ্বোধনের এক মাস পেরোলেও কেনো আমরা এখনো নিয়মিত খাবার পাচ্ছি না। খাবারের এই সংকট কবে কাটবে? একটি ক্যান্টিনে নিশ্চয়ই শুধু চা, সিঙ্গারা পাওয়া যাবে না? কবে আমরা ক্যান্টিনে সম্পূর্ণভাবে খাবার পাবো? এছাড়াও বাড়তি দামে খাবার বিক্রির অভিযোগও করেছে শিক্ষার্থীরা। 

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোবাশ্বের রহমান বলেন, ক্যান্টিন চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত একদিনও খাবার পেলাম না। শুনেছি সিঙ্গার আর চা নাকি পাওয়া যায় কিন্তু আমি গিয়ে একদিনও সেটা পেলাম না। এছাড়া প্রতিদিন ক্লাস শেষে বন্ধুদের নিয়ে ক্যান্টিনে বসতে চাই কিন্তু তার আগেই দেখি ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে যায়। 

ক্যান্টিন থেকে খাবার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলা বিভাগের সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় ক্যাম্পাসে আসি এরপর দুপুর পর্যন্ত থাকতে হয় কিন্তু কলেজের ক্যান্টিনে খাবার না পেয়ে বাইরে গিয়ে খেতে হয়। ক্যান্টিন চালু হওয়ার পর ভেবেছিলাম এখন থেকে এখানেই খেতে পারবো কিন্তু খাবার সংকটে একদিনও খেতে পারিনি তাই বাধ্য হয়ে বাইরের হোটেলে গিয়ে খেতে হয়। 

ক্যাম্পাসে ক্যান্টিন কিন্তু তার পাশেই টংয়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন একদল শিক্ষার্থী। ক্যান্টিন ছেড়ে এখানে কেনো জিজ্ঞেস করতেই তারা বলে - ক্যান্টিনে তো কিছু নেই, তাই বাধ্য হয়েই ক্যান্টিনের পাশে চায়ের দোকানে চা খাচ্ছি। 

ক্যান্টিনে যদি খাবারই না পাওয়া যায় তাহলে সেটি বানিয়ে কি লাভ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দর্শন বিভাগের এক শিক্ষার্থী। তিনি জানান, এমন ক্যান্টিন তো আমরা চাই নি যেখানে শিক্ষার্থীরা আসার আগেই খাবার শেষ হয়ে যায়। ক্যান্টিন চালু হওয়ার পর দুই দিন ক্ষুধা নিয়ে খেতে এসেছি, কিন্তু খাবার না পেয়ে চলে গেছি। এমনকি শেষ পর্যন্ত চাও পাই নি একদিন।

ক্যান্টিনে খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ছেলেটির কাছে জানতে চাইলে সুস্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেন নি সে এবং কবে নাগাত ক্যান্টিনে খাবার বানানো হবে সেটিও স্পষ্ট করে বলতে পারে নি তিনি। তিনি জানান, কারিগর খুঁজছি এখন পাই নি। কারিগর পেলেই এখানে বানানো হবে। 

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সম্পাদক ও ক্যান্টিন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক এ এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, ক্যান্টিন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম চালু হয় নি। আমরা দুয়েক দিনের মধ্যে সবাইকে নিয়ে অধ্যক্ষ স্যারের সাথে এ বিষয়ে বসবো। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মহিউদ্দিন বলেন, আমরা এখনো ক্যান্টিন কাউকে হস্তান্তর করিনি, খুব শীঘ্রই আমরা একটি কমিটি করবো। এছাড়াও ক্যান্টিনে এখনো গ্যাসের লাইন নেই তাই কারিগর দিয়ে বানানো হচ্ছে না। 

তিনি আরও জানান, যেহেতু এখানে ছাত্র-ছাত্রীরা খায় অবশ্যই সহনীয় দামে বিক্রি করা হবে, ৫ টাকার সিঙ্গারা যেন কোনভাবেই ১০ টা নাহয় এ ব্যাপারে আমি কথা বলবো। 

শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগে সত্যতা রয়েছে জানিয়ে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রিপন মিয়া বলেন, এটা তো কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয় যেহেতু ফেলে রেখেছে তাই বাহির থেকে খাবার এনে আমরা নিজেরা মিলেই আপাতত ট্রায়াল হিসেবে পরিচালনা করছি। এছাড়াও এখনো গ্যাসের লাইন হয় নি তাই বানানো সম্ভব হচ্ছে না।
আর দীর্ঘ দিন এখানে ক্যান্টিন ছিলো না তাই আমরা ছাত্রদের মধ্যে একটা পরিবেশ তৈরি করছি যেন ভবিষ্যতে কোনো অপ্রতিকর ঘটনা না ঘটে। খুব দ্রুতই কলেজ প্রশাসনের সাথে কথা বলে কমিটি করে আমরা ভালো কাউকে এটা বরাদ্দ দিবো।  

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুলাই তিতুমীর কলেজে ক্যান্টিন উদ্বোধন হয়। ক্যান্টিনটি উদ্বোধন করেন সরকারি তিতুমীর কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ তালাত সুলতানা। এর আগে তিতুমীর কলেজে ১৯ বছর যাবৎ ক্যান্টিন ছিল না।

ইত্তেফাক/এআই