রাজশাহীতে ডাকাত দলের ৬ সদস্য গ্রেফতার

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২২, ১৬:৪২

রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানার পোস্টাল একাডেমির সামনে ডাকাতির ঘটনায় ৬ ঘন্টার মধ্যে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) শাহমখদুম থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেন। এসময় আসামিদের কাছ থেকে ডাকাতির ১৬ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯৪০ টাকা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্স জব্দ করা হয়েছে।   

সোমবার (২২ আগস্ট) বিকাল ৩টায় সদরদপ্তর কনফারেন্স রুমে আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. মজিদ আলী এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, ডাকাতির ঘটনায় রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার পূর্ব মোল্লাপাড়ার মো. রাজ্জাকের ছেলে মো. আশিক ইসলাম; মো. আজাদ আলীর ছেলে মো. হৃদয়; রাজপাড়া থানার আলীগঞ্জ মধ্যপাড়ার মো. আসলাম আলীর ছেলে মো. আব্দুর রহমান; আসলামের ছেলে মো. আব্দুর রহিম; ডিঙ্গাডোবা ঘোষ মাহালের মো. লোকমানের ছেলে মো. রিকো ইসলাম ও চন্ডীপুর সুফিয়ানের মোড়ের মৃত এবাদুলের ছেলে মো. ইয়ামিন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার মো. একলাছ মোল্লা-সহ ৮৫ জন পান ব্যবসায়ী একটি সমিতি গঠন করে রাজশাহী জেলার দূর্গাপুর থানার দাওকান্দি বাজারে পানের ব্যবসা করত। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহীর বিভিন্ন অঞ্চল হতে পান ক্রয় করে ঢাকার শ্যাম বাজারে বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করে থাকে। 

রবিবার ভোর সোয়া ৫টায় মো. রায়হান আহম্মেদ, মো. শহিদুল ইসলাম ও মো. আমিনুল ইসলাম ঢাকায় পান বিক্রির ৩৪ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা নিয়ে শিরোইল বাস টার্মিনালে পৌঁছান। সেখান তারা একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে দাওকান্দি বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। একসময় তারা লক্ষ করে, তাদের সিএনজি অটোরিকশাকে একটি নীল রংয়ের অ্যাম্বুলেন্স অনুসরণ করছে। ভোর সাড়ে ৫টায় নগরীর শাহমখদুম থানার পোস্টাল একাডেমির সামনে পৌঁছালে পেছনে থাকা সেই অ্যাম্বুলেন্সটি হঠাৎ সামনে এসে তাদের গতিরোধ করে। সিএনজি থামার সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাম্বুলেন্স থেকে ৬-৭ জন ডাকাত বের হয়ে চায়নিজ কুড়াল, হাসুয়া, চাকু, ছোরা ও লোহার রড নিয়ে তাদের ঘিরে ধরে। এসময় রায়হান পালানোর চেষ্টা করে। ডাকাতরা তাকে ধরে মারধর করে তার কাছে থাকা ১৪ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা-সহ অন্যদের কাছে থাকা মোট ৩৪ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা ডাকাতি করে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আম চত্বরের দিকে পালিয়ে যায়।    

একলাছ মোল্লার এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আসামিদের নাম ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতার অভিযান শুরু করেন। পরে শাহমখদুম থানা পুলিশ আরএমপি'র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত এ্যাম্বুলেন্সসহ আসামিদের শনাক্ত করেন। এরপর তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের গ্রেফতার করে। 
 
অবশিষ্ট টাকা উদ্ধার ও সহযোগী আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এআই