ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী এলমা চৌধুরী ওরফে মেঘলার মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় তার স্বামী স্বামী ইফতেখার আবেদীনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত।
বুধবার (২৪ আগস্ট) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবুবকর ছিদ্দিকের আদালতে মামলাটি নারাজি দাখিলের জন্য ধার্য ছিল। এদিন এলমার বাবা আদালতে হাজির হন। তবে ডিবি পুলিশের দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে আপত্তি নেই মর্মে আদালতকে জানান। এরপর আদালত এলমার স্বামী ইফতেখার আবেদীনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন। ডিবি পুলিশের আবেদন অনুযায়ী এলমার শ্বশুর লে. কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) মো. আমিন ও শাশুড়ি শিরিন আমিনকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি দেন।
এদিকে মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় নথিটি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) বরাবর প্রেরণের আদেশ দেন। পরবর্তীতে সিএমএম নথিটি পরবর্তী বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো আদেশ দেবেন।
এর আগে ৩ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম আবুবকর ছিদ্দিকের আদালত এ দিন ধার্য করেন। এদিন আদালতে মামলাটি শুনানির তারিখ ধার্য ছিল। ডিবির দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন জানিয়ে এলমার বাবা সময় আবেদন করেন। আদালত আগামী ২৪ আগস্ট নারাজির বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।
তারও আগে গত ৩১ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) কাজী শরীফুল ইসলাম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ইফতেখার আবেদীনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় ইফতেখারের মা-বাবাকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়।
অভিযোগপত্রে ইফতেখারের বিরুদ্ধে বলা হয়, ঘটনার দিন বাইরে যেতে চাইলেও আসামি ইফতেখার আবেদীন এলমাকে যেতে না দিয়ে দরজা আটকে রাখেন এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। আসামি ভিকটিমকে অকারণে কুৎসা রটিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মারপিট করেন। ভিকটিম অসৌজন্যমূলক আচরণ, অকারণে কুৎসা রটনা ও মারপিট সহ্য করতে না পেরে শয়নকক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২১ সালের ২ এপ্রিল ইফতেখার আবেদীনের সঙ্গে এলমা চৌধুরীর বিয়ে হয়। এলমা চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃত্যকলা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। বিয়ের পর ইফতেখার আবেদীনের পিতা এলমা চৌধুরীর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বন্ধ করতে বলেন।
তবে ভুক্তভোগী এলমা পড়ালেখা বন্ধ করতে না চাইলে ইফতেখার ও তার বাবা-মা মিলে এলমাকে শারীরিক নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে দেন। এছাড়া সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেন। বিয়ের আনুমানিক তিনমাস পর এলমাকে বনানীর বাসায় রেখে ইফতেখার কানাডার চলে যান।
গত ১১ ডিসেম্বর কানাডা থেকে দেশে আসেন ইফতেখার। এরপর ১৪ ডিসেম্বর আনুমানিক বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ভুক্তভোগী এলমার মাকে ফোন করে ইফতেখার জানান, আপনার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ। তাকে চিকিৎসার জন্য গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। আপনারাও আসেন।
এরপর ভুক্তভোগীর মা-বাবা হাসপাতালে গিয়ে এলমা চৌধুরীকে মৃত দেখতে পান। এ ঘটনায় এলমার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় এলমার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করা হয়।
