তিনটি ছানা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে দুটি জলময়ূর

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২২, ১৭:৪৬

পাশেই যানবাহনপূর্ণ মহাসড়ক, সেই কোলাহলের মধ্যেই পাশের জলাশয়ে জলজ উদ্ভিদের ওপর আপন মনে তিনটি ছানা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে দুটি জলময়ুর। এমন দৃশ্য চোখে পড়বে রাজশাহী শহরের উত্তরপ্রান্তে নওদাপাড়া আমচত্বর এলাকায়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের পুকুরে। লম্বা লম্বা পা ফেলে ছানা সমেত ঘুরে বেড়ানোর দুর্লভ দৃশ্য ধারণ করতে দূর দূরান্ত থেকে এরই মধ্যে পাখিপ্রেমীরা এসেছেন এই স্থানে। 

পাখিপ্রেমীরা বলছেন, প্রাকৃতিক জলাশয় ধ্বংস করায় তাদের খাদ্যশৃঙ্খল নষ্ট হয়ে পড়েছে। প্রজননের স্থান না থাকায় এ পাখি এখন বিলুপ্তির শঙ্কায়। এটি টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন প্রাকৃতিক জলাশয় ফিরিয়ে আনা।

জল ময়ূর, নেউ বা পদ্মপিপি নামেও এই পাখিটি বাংলাদেশে পরিচিত। অদ্ভুত সুন্দর এই পাখিটির সংখ্যা বর্তমানে দেশে উল্লেখযোগ্য হারে কম। মূলত এদের আবাস হাওড়, বিলসহ বিস্তীর্ণ জলাভূমি। ভাসমান পাতার ওপর হেঁটে হেঁটে জলজ উদ্ভিদে থাকা পোকা মাকড়, কচি পাতা ও বীজ খায়। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের জলাধার কিংবা বিলগুলো সব বিলীন হয়ে যাওয়ায়, পুকুরে রূপান্তরিত করায় এ পাখিটি তাদের আবাস হারিয়েছে। বাধ্য হয়েই লোকালয়ে, মহাসড়কের পাশে স্থান করে নিচ্ছে।

রাজশাহীর পাখি বিশেষজ্ঞ হাসনাত রনি। পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা হলেও পাখির প্রতি তার ভালোবাসা অফুরান। রাজশাহী অঞ্চলে খুঁজে খুঁজে বের করেছেন বিচিত্র, দুর্লভ দেশি-বিদেশি পাখি। রাজশাহীকে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন বার্ডশাহী।

তিনি বলেন, পাখিদের মধ্যে স্ত্রী পাখির চেয়ে পুরুষ পাখির আকার বড় ও সুদৃশ্য হলেও জলময়ূরের ক্ষেত্রে পুরুষটি স্ত্রী পাখির চেয়ে ছোট। স্ত্রী জলময়ূর একই মৌসুমে একাধিক জোড়া বেঁধে বেশ কয়েকটি স্থানে ডিম দিতে পারে। সেগুলোতে তা দিয়ে বাচ্চা লালন পালন করে পুরুষ জলময়ূর। স্থান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এরা আশ্চর্যজনকভাবে মুখের মধ্যে ডিম নিয়ে যেতে পারে। প্রজনন মৌসুমে এদের লেজ বেশ বড় হয়ে যায় বলে ইংরেজিতে এদের নাম ‘ফিজেন্ট টেইলড জাকানা’। প্রজননের পর আবার তা ছোট আকার ধারণ করে।

জলময়ূর ও তার ছানাদের দেখতে এসে পাখিপ্রেমী অনিক বলেন, প্রকৃতির ওপর মানুষের যে অত্যাচার তার ফলে এই পাখিগুলো বেশ বিপদে পড়ে। প্রকৃত আবাস হারিয়ে তারা এক প্রকার বাধ্য হয়েই কোলাহলপূর্ণ এই জলাশয়ে স্থান করে নিয়েছে। তারা দাবি জানিয়েছেন জলাশয় বা বিলগুলো যেনো ভরাট না হয়ে যায় কিংবা মাছচাষের পুকুর না হয়ে যায়। সেদিকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারী চান তারা।

তিনি জানান, রাজশাহীতে মহাসড়কের পাশে ছানা ফুটিয়ে বড় করার চেষ্টা করলেও মানুষের পক্ষ থেকে কোনো ক্ষতি সাধিত হয়নি। বরং সাংবাদিকদের ফুটেজ সংগ্রহের পরদিন তিনটির মধ্যে একটি ছানা তুলে নিয়ে গেছে কাক। এ ভাবে হয়তো আরও একধাপ পেছালো জলময়ূরের টিকে থাকার লড়াই। 

ইত্তেফাক/এআই