অবশেষে রাজশাহীতে সিটি বাস সার্ভিস চালু

চাপের মুখে অটো চলাচল শুরু

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২২, ২০:০৮

অটোরিকশার ধর্মঘটের কবল থেকে সাধারণ জনগনকে মুক্ত করতে অবশেষে রাজশাহী মহানগরীতে চালু হয়েছে সিটি বাস সার্ভিস। সোমবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে মহানগরীর রেলগেট থেকে কোর্ট, কোর্ট থেকে সাহেববাজার, নওহাটা থেকে সাহেববাজার, কাটাখালি থেকে কোর্ট রুটে ৩০টি বাস নামানো হয়েছে। রাজশাহী পরিবহণ গ্রুপের (বাস মালিক সমিতি) সাধারণ সম্পাদক মতিউল হকের বরাত দিয়ে যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাফকাত মঞ্জুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে দুপুর থেকেই রাজশাহী মহানগরীতে সিটি সার্ভিস বাস চলাচল করতে দেখা যায়। এতে করে অটোরিকশা বন্ধ হওয়ার পরে নগরীতে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে যে দুর্ভোগ তৈরি হয়, সেটি অনেকটাই নিরসন হয়েছে।

অন্যদিকে সিটি বাস সার্ভিস চালুর ঘোষণা ও আনুষ্ঠানিক চলাচল শুরুর পর টনক নড়েছে অটোচালক-মালিকদের। ইতোমধ্যে তারা স্বঘোষিত ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছন সমিতির সভাপতি মফিজ উদ্দিন। 

এর আগে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই অটোরিকশা মালিক-চালকরা গত রবিবার ভোর থেকে নগরীতে অটোরিকশা ধর্মঘট শুরু করে। এতে বিপাকে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। বিশেষ করে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসাীরা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন। চাকরিজীবীরা বিলম্বে অফিসে যেতে পারলেও বহু শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসতে পারেনি বলে জানা যায়।

হঠাৎ নগরীতে যানবাহন সংকেটর সুযোগে ব্যাটারী চালিত তিন চাকার ছোট রিকশা চালকরা কয়েকগুণ ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। যেখানে ২০ টাকার ভাড়া ছিল সেখানে আদায় করতে থাকে ৪০/৬০ টাকা পর্যন্ত। তার পরেও সময়মতো ছোট রিকশা পায়নি যাত্রীরা। বিশেষ করে সকালের দিকে স্কুল-কলেজে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী ও সরকারি ছোট চাকরিজীবীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে। যা গতকাল সোমবারও অব্যাহত ছিল।

রাজশাহী সড়ক পরিবহণ গ্রুপের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সাফকাত মঞ্জুর বিপ্লব জানান, তেমন লাভ না হওয়ায় তারা সিটি বাস সার্ভিস চালাতেন না। কিন্তু গত দুদিন ধরে এই নগরীর মানুষের সাথে অটোমালিক-চালকরা যে অবিচার এবং যাতায়াতে মানুষের দুর্ভোগ দেখে তারা স্থির থাকতে পারেননি। গতকাল সোমবার দুপুরে তারা জরুরী সভায় মিলিত হয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিটি বাস সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০টি বাস দিয়ে সিটি বাস সার্ভিস চালুও করেন। বিষয়টি তারা রাজশাহী সিটি করপোরেশন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করছেন বলেও জানান তিনি।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি