বাউবির উচ্চশিক্ষা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৩০

বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বলা আছে ‘সকল পর্যায়ের শিক্ষায় জনগণের প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত ও ত্বরান্বিত করিবার উদ্দেশ্য’। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল কাজ হলো রাষ্ট্রে যত ধরনের শিক্ষা আছে সেইসব ধরনের শিক্ষায় জনগণকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া।

বিভিন্ন টকশোতে রাষ্ট্রের শিক্ষাবিদরা শিক্ষা প্রসারে তাগিদ দেন। বাউবি ঠিক এই উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত এবং আইনে তেমনই ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলেও উচ্চশিক্ষা প্রসারে প্রতিবন্ধকতা কেন? বাউবির উচ্চশিক্ষা জাতীয় উন্নয়নে ও জনগণের জন্যই।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে দশ লাখের মতো শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষার্থীদের সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশে বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এটি একটি। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার শতকরা ৭৫ ভাগের মতো। সেখানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এবং সুযোগ অনেক কম এবং মানসম্মত শিক্ষার্থীও। বাউবি সেখানে ২০১১ সাল থেকে উচ্চশিক্ষা প্রদানে সুযোগ তৈরি করেছে, মানসম্মত ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা করেছে এবং সেটিতে জনগণের প্রবেশাধিকারে উন্মুক্ত রেখেছে; যেটি অন্য কোনো সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। অনেকের পক্ষে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে পড়া সম্ভব নয়, কারণ আর্থিক সামর্থ্যের অভাব। বাউবি সেখানে তাদের জন্য আশীর্বাদ।

অনেকেরই এখনও এই ধারণা যে বাউবিতে কেবল পিছিয়ে পড়া, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরা পড়তে পারে। এরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের অযোগ্য এবং বাউবির সেই সক্ষমতা নেই কিংবা বাউবি মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারে না। অথচ বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৯২-এর ৯ ধারা বিশে­ষণ করলে দেখা যায় যে, বাউবি টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে পাঠদান কিংবা প্রযুক্তির মাধ্যমে কিংবা হল স্টাডি সেন্টারের মাধ্যমে কিংবা মাঠে সম্পূর্ণভাবে বাস্তব উপায়সহ যে কোনো উপায়ে পাঠদান করতে পারবে। শুধু তাই নাই, বাউবির শিক্ষকরা সেইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের জন্য অন্যান্য দেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন।

ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য উপযুক্ত হয়েই আসে। সেখানে যে কোনো ব্যক্তি বাউবির  শিক্ষার্থী হতে পারবে। এখানে আইনগত প্রতিবন্ধকতা নাই এবং ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে উপযুক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া  অন্য কোনো কিছুই যাচাই-বাছাই করা হয় না। কে পড়বে আর কে পড়বে না এটি কেবলই তার ইচ্ছা আর বাউবিতে নেই প্রতিবন্ধকতা।

বর্তমানে বাউবিতে উচ্চশিক্ষায় অনার্স পর্যায়ে ১১টি কোর্স চালু আছে। যেটি বাউবি ঢাকা আঞ্চলিক ক্যাম্পাস আর মূল ক্যাম্পাসে আছে। আরো আছে মাস্টার্স, এমফিল ও পিএইচডি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট এবং জাতীয় উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আরো উচ্চশিক্ষা কোর্সের প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশে প্রায় ৩৫ লাখের মতো উচ্চশিক্ষা গ্রহণের শিক্ষার্থী আছে যার মধ্যে মাত্র দশ শতাংশ ফলিত শিক্ষার শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির জন্য বাউবির বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্রকে একাডেমিক ক্যাম্পাসে রূপান্তর করার পাশাপাশি আরো ফলিত বিষয় অধ্যয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

উন্মুক্তভাবে শিক্ষার বিস্তার এবং সকল স্তরের জনগণকে সমপৃক্ত করার জন্যই বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)। রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠায় ও মান রক্ষায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা।

শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন