দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে কাঁকড়া নদীর ওপর রাবার ড্যাম নির্মাণের ফলে অনাবাদি জমিগুলো রূপান্তরিত হয়েছে আবাদিতে। সেচ সুবিধার আওতায় আসায় লাভবান হচ্ছে নদীর দুই কুলের প্রায় ৫ হাজার কৃষক ও ২ হাজার জেলে পরিবার। এছাড়া কৃষি, মাছ চাষসহ এ প্রকল্পকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পর্যটন এলাকা। ২০০১ সালে কাঁকড়া নদীর ওপরে দিনাজপুর এলজিইডি ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩০ ফুট দীর্ঘ রাবার ড্যামটি নির্মাণ করে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা যায়, এ রাবার ড্যাম নির্মাণের ফলে উপজেলার ২৪টি ব্লকের মধ্যে ১২টি ব্লকের ১২ হাজার ২০৫ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। রাবার ড্যাম নির্মাণের পর কুশলপুর, খোচনা, পশ্চিম সাইতাড়া, দক্ষিণ পলাশবাড়ী, উত্তর ভোলানাথপুর, আন্ধারমুহা, অমরপুর, ভিয়াইল, কালীগঞ্জ, তালপুকুর, পুনট্রি, উচিতপুর, তুলশিপুর, নারায়ণপুর ও গোবিন্দপুর গ্রামের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।
সাইতাড়া গ্রামে কৃষক মাহাবুর রহমান জানান, আমাদের জমিগুলো উর্বরা হওয়া সত্ত্বেও সেচের অভাবে ইতিপূর্বে অনাবাদি ছিল। রাবার ড্যাম নির্মাণ হওয়ায় এখন কয়েকটি এলাকায় তিনটি ফসল হচ্ছে। আমন, ইরি, আলু, সরিষা, ভুট্টা, গমসহ অন্য ফসলের চাষ করে আমরা লাভবান হচ্ছি। কৃষিকার্যে চাহিদা অনুযায়ী নদী ও খাল থেকে পানি তুলে কৃষকেরা অনায়াসে জমিতে সেচ দিতে পারছেন। আগে এক বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০ মণ ধান উৎপন্ন হতো। রাবার ড্যাম নির্মাণের ফলে সেচ সুবিধার কারণে এখন বিঘাপ্রতি ৩৫ মণ থেকে ৪০ মণ ধান উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি অন্য আবাদেরও কাঙ্ক্ষিত ফলন হচ্ছে। একই কথা বললেন, কৃষক মন্টু চন্দ্র রায়, পরেশ চন্দ্র রায়, মশিউর রহমান, চন্দ্র মোহন বাবু, মহেন্দ্র নাথ রায়, আবুল কালাম ও নজির উদ্দিন।
সরজমিনে দেখা গেছে, সাইতাড়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে বয়ে যাওয়া কাঁকড়া নদীর ওপর রাবার ড্যামটি নির্মিত হওয়ায় নদীর উত্তর দিকে যত দূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি দেখা যায়। তাই সেচ ব্যবস্থার পাশাপাশি কাঁকড়া নদীতে চলছে ছোট-বড় অনেক নৌকা। এসব নৌকা দিয়ে মানুষ এপার ওপারে যাতায়াত করে এবং ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ভাটিতে ড্যামের অল্প পানিতে মাছ ধরে, খেলা করে। এছাড়া রাবার ড্যামের ওপর রয়েছে একটি ফুট ব্রিজ ও পাশে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে কংক্রিটের ঢালাই করা ছাতা। রয়েছে বসার বেঞ্চ ও বাংলো ঘর। রাবার ড্যামের পশ্চিম-উত্তর দুই ধার দিয়ে গড়ে উঠেছে বাজার। ফলে এ রাবার ড্যাম প্রকল্প ঐ এলাকার চিত্রটিই বদলে দিয়েছে।
চিরিরবন্দর কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা বলেন, রাবার ড্যাম প্রকল্পটি শুধু কৃষকদের ভাগ্যই বদলায়নি, ঐ এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশেও ভারসাম্য এনেছে। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী রাবার ড্যাম প্রকল্প পরিদর্শনে এসে থাকেন। এছাড়া শীত মৌসুমে এখানে অনেকে পিকনিক করতে আসেন।
