দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজনীয়তা

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:৩০

রাষ্ট্রব্যবস্থার উন্নয়নের মূল পাথেয় বা ভিত্তি হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি। দক্ষ জনশক্তি রাষ্ট্রের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে অর্থনীতির চালিকাশক্তিকে সচল করে। একটি রাষ্ট্রের অদক্ষ, অশিক্ষিত ও বেকার কর্মক্ষম মানুষকে রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতায় দীক্ষিত করে দেশ ও বহির্বিশ্বে দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে সহায়তা করাকে দক্ষ জনশক্তি বলা হয়। দক্ষ জনশক্তি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া, যা নিয়মসংবলিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। দক্ষ জনবল গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিত হয়। একটি আদর্শ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে দক্ষ জনশক্তির বিকল্প নেই। স্বাভাবিক ভাবে দেশের অদক্ষ  মানুষের মধ্যে কর্মক্ষম মনোভাব সৃষ্টি করে কর্মদক্ষতার উন্নয়ন সাধন করাই হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি গঠন করার প্রাথমিক ও মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দক্ষ জনশক্তি। দেশগুলো তাদের মানবাধিকার চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তাকে প্রাধান্য দিয়ে দক্ষ জনশক্তি নির্মাণ করছে। এতে উক্ত দেশের শক্ত ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের গতি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ব বাজারেও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশ রয়েছে, যাদের ভিত্তি সম্পূর্ণরূপে দক্ষ জনশক্তির ওপর নির্ভরশীল। কারণ দেশগুলো তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের পরিস্থিতি অবলোকন করে স্থায়ী কাঠামো নির্মাণে মূল প্রকল্প তৈরি করেছে দক্ষ জনশক্তিকে কেন্দ্র করে। এতে দেশগুলোর নাগরিক চাহিদা অর্জিত হচ্ছে এবং পূরণ হচ্ছে অর্থনীতির ঘাটতিগুলো।

আমাদের দেশে সামাজিক সমস্যা প্রকট। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে যৌতুক, বাল্যবিবাহ, নারী সমস্যা, মানব পাচার, লিঙ্গ বৈষম্যসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের হার বাংলাদেশে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ, যা এ অঞ্চলের ২৮টি দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রতি  বছর আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দক্ষ জনশক্তি গঠনে তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক কাঠামোকে সুশৃখল করা দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এতে দেশের সামাজিক সমস্যা লাঘব হবে। চিন্তা ধারা ও মনোভাবে আধুনিকতার ছাপ পরিলক্ষিত হবে। দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের প্রসার ও বিকাশ হবে।  সেজন্য  দক্ষ জনশক্তি নির্মাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে।

আঞ্চলিক রাজনীতি থেকে শুরু করে বিশ্বরাজনীতিতে বাংলাদেশের প্রভাব বেশ ইতিবাচক। সেই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখতে দক্ষ জনশক্তি নির্মাণ করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত দেশের উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। মৌলিক বিষয় পঠনের পাশাপাশি কর্মমুখী বিষয়বস্তু সংযুক্ত করতে হবে। কম্পিউটার, মত্স্য, কৃষি, অটোমোবাইলসহ আধুনিক চাহিদা সম্পন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রফতানি নির্ভর হতে হবে। সে জন্য নিজেদের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করতে হবে। যাতে দেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক উত্পাদনকৃত পণ্য ও শস্যের ফলন হয়। অর্থনীতি ও সামাজিক খাতের সূচকগুলোতে ভারসাম্যপূর্ণ স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে হবে। তাছাড়া রেমিট্যান্স আমাদের দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত। সে জন্য বিদেশ থেকে অর্থ আনয়নে নিয়মনীতি শিথিল করতে হবে, যাতে বৈদেশিক মুদ্রার আয় চলমান থাকে সবসময়। এতে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মানে আমূল পরিবর্তন হবে। দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে ভাবমূর্তির উন্নতি হবে বিশ্বব্যাপী।

লেখক : শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

 

ইত্তেফাক/ইআ