শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পাকিস্তানে বন্যা : আটকানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:০২

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও পাকিস্তানে বন্যায় আটকানো যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিল। তীব্র বন্যার জেরে ইতিমধ্যে পাকিস্তানে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বা এনডিএমএ। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছে ২৯ জন এবং আরও ১১৫ জন আহত হয়েছে। বিভিন্ন মহলের দাবি, পাকিস্তানে এখন যা পরিস্থিতি, তাতে বলা চলে যে দেশের তিন ভাগই পানির নিচে। —খবর আনন্দবাজার পত্রিকার

পাকিস্তানের বন্যায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থা দক্ষিণের প্রদেশগুলোর, যার মধ্যে রয়েছে বালুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখাওয়া ও সিন্ধু। এর মধ্যে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি সিন্ধু প্রদেশে। এখনো পর্যন্ত সেখানে প্রাণ হারিয়েছে ১৮০ জন। তার পরেই রয়েছে খাইবার পাখতুনখাওয়া। বন্যার কারণে সেখানে মৃত্যু হয়েছে ১৩৮ জনের। তার ঠিক পরেই স্থান বেলুচিস্তানের। এই প্রদেশে মারা গেছে ১২৫ জন।

পাকিস্তানের বন্যা পরিস্থিতি।

বন্যার পানির তোড়ে পুরোপুরি বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ লাখের বেশি বাড়িঘর। প্রাণ গেছে প্রায় ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৪৫৯টি গবাদি পশুর। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

পাকিস্তানের বন্যা পরিস্থিতি।

রবিবার সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন পাকিস্তান মন্ত্রিসভার পরিকল্পনাবিষয়ক মন্ত্রী আহসান ইকবাল। সেখানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাহায্যের আবেদন করেন তিনি। পাশাপাশি দেশবাসীকে এ-ও আশ্বাস দেন যে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে সরকার যতই আশ্বাস দিক না কেন, পাকিস্তানে বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের পরিস্থিতি যে কতটা কঠিন, তা বোঝা যায় ত্রাণশিবিরগুলোতে গেলেই। ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের ঠিকানা এখন বালোচিস্তান, খাইবার পাখতুনখাওয়া, সিন্ধু ও পাঞ্জাব প্রদেশের আনাচে-কানাচে তৈরি হওয়া ত্রাণশিবিরগুলোতে।

 

ইত্তেফাক/ইআ